বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ দোরগোড়ায়। চার বছর পর পর ফিরে আসা এই বিশ্বমঞ্চে এবার বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত দুই যুগের ফুটবল শাসন করা লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সম্ভবত তাদের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। কিন্তু এই বয়সের ভারে কি তাদের জনপ্রিয়তা বা মাঠের প্রভাব কমেছে? নাকি ফ্রান্সের তরুণ তুর্কি কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতিমধ্যে তাদের সিংহাসন দখল করে নিয়েছেন? এই প্রশ্নটি এখন ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে। আল জাজিরার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারকা খ্যাতির এই লড়াইটি বেশ বৈচিত্র্যময়।
টিকিট বিক্রির হিসাব করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির ম্যাচের টিকিট সবার আগে শেষ হয়েছে। এমনকি মেসি এখন মেজর লিগ সকারে খেলছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রে তার আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর্জেন্টাইন ভক্তরা টিকিট বিক্রিতে শীর্ষে থাকায় মেসি বর্তমানে মাঠের বাইরের ড্র হিসেবে সবার উপরে। তবে রোনালদো বা এমবাপ্পের ম্যাচের টিকিটও কম চাহিদসম্পন্ন নয়। বিশেষ করে পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের টিকিটের দাম তিন হাজার থেকে ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছে, যা প্রমাণ করে রোনালদোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এখনো তুঙ্গে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে চিত্রটি বদলে যায়। এখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ। তিনি ইতিমধ্যে ১৪ ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন এবং পাঁচটি গোলে সহায়তা করেছেন। যেখানে মেসি ২৬ ম্যাচে ১৩টি গোল করেছেন এবং রোনালদো ২২ ম্যাচে আটটি গোল পেয়েছেন। বয়সের হিসেবে এমবাপ্পের গোল গড়ের সক্ষমতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। মেসি বা রোনালদো যখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে, এমবাপ্পে তখন তার শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে।
জনপ্রিয়তা বা সার্চ ভলিউমের দিক থেকে অবশ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গুগল অনুসন্ধানে গত ২৫ বছরের সেরা অ্যাথলেট হিসেবে রোনালদোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে করা তথ্যানুসারে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ রোনালদোকে গুগলে খুঁজেছেন। মেসি এবং এমবাপ্পের সার্চ ভলিউম রোনালদোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রোনালদো এখনো একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্বকাপের এই আসরটি হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যের বিদায় এবং নতুন আগমনের সন্ধিক্ষণ। মেসি এবং রোনালদো তাদের ভক্তদের আবেগ এবং নস্টালজিয়ার প্রতীক হিসেবে টিকে আছেন। অন্যদিকে মাঠের পারফরম্যান্স এবং গোল করার দক্ষতার দিক থেকে এমবাপ্পে নিজেকে নতুন প্রজন্মের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সমর্থকদের কাছে মেসি টিকিটের বড় আকর্ষণ, রোনালদো ইন্টারনেটের রাজা, আর এমবাপ্পে মাঠের প্রাণ। ২০২৬ বিশ্বকাপই হয়তো প্রমাণ করবে এই তিন তারকার মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত ফুটবলের রাজা হিসেবে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারে।
