যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেটগুলো এখন উচ্চ কর, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ইরান যুদ্ধের কারণে বড় ধরনের সংকটের মুখে। মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার (এমঅ্যান্ডএস) বুধবার তাদের ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই ত্রিমুখী সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড কমে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে এই কড়া সতর্কতা এলো।
এমঅ্যান্ডএস-এর প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট মাচিন বর্তমান পরিস্থিতিকে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এক চরম `ত্রিমুখী বিপর্যয়` বলে আখ্যায়িত করেছেন।
গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ও সার্বিক আয় ২৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৭৩০ কোটি পাউন্ডে দাঁড়িয়েছিল। এত বিশাল আয়ের পরও নিট মুনাফা ৫১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড থেকে এক ধাক্কায় ৩৬ কোটি ৪৬ লাখ পাউন্ডে নেমে আসে। এই ব্যাপক মুনাফা কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে গত এপ্রিলের একটি ভয়াবহ সাইবার হামলা। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ব্যবসা খাতে তাদের প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড ক্ষতি গুনতে হয়।
এমন বিপর্যয়ের পরও স্টুয়ার্ট মাচিন গ্রাহকদের জন্য পণ্যের দাম কম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, মান ও মূল্যের ওপর বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে।
এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ডিম, রুটি ও দুধের মতো অত্যন্ত জরুরি খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর বিনিময়ে তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু সরকারি নিয়মকানুন শিথিল করার কথা বলেন। লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করা হলে ব্যবসায়ীদের ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সরকারের এমন আকস্মিক প্রস্তাব খুচরা ব্যবসায়ী ও সুপারমার্কেট মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য গোষ্ঠী ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী হেলেন ডিকিনসন এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, অর্থমন্ত্রীর কোনোভাবেই উচিত নয় সুপারমার্কেটগুলোকে লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করা। ডিকিনসন বলেন, ১৯৭০-এর দশকের মতো জোরপূর্বক দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে সরকারের উচিত সেসব সরকারি নীতির খরচ কমানো, যেগুলো খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুপারমার্কেটগুলোর নিজেদের মধ্যকার তীব্র প্রতিযোগিতার কারণেই যুক্তরাজ্যে মুদিপণ্যের দাম এখনো পুরো পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কম।
