মার্কিন ডলারের দরবৃদ্ধি, ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বেড়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক মার্কেটে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৭ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে এসেছে, যা গত ৫ মে-র পর সর্বনিম্ন।
শুধু চলতি সপ্তাহেই এই মূল্যবান ধাতুটির দাম বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।এই ব্যাপক দরপতনের জেরে বাংলাদেশের বাজারেও প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘মারেক্স’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, মার্কিন ডলার অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থাকা এবং বিশ্বজুড়ে বন্ডের মুনাফার হার বৃদ্ধি পাওয়াই এই দরপতনের প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তি হওয়া মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি স্পট সিলভার বা রুপার দাম এক ধাক্কায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬ ডলার ২৬ সেন্টে নেমে এসেছে, যা গত ৩ মার্চের পর ধাতুটির সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
বৈশ্বিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
