২০২৬ সালের মে মাসের এই উত্তাল সময়ে এসে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা এবং বিষণ্ণতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে উচ্চাভিলাষী কর্মজীবন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চাপে পড়ে আধুনিক পরিবারগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম পরিবারগুলো মানসিক প্রশান্তির জন্য পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর প্রদর্শিত জীবনপদ্ধতির দিকে নতুন করে ফিরে তাকাচ্ছে। আল জাজিরা এবং দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ২০২৬ সালে এসে অনেক পরিবার বুঝতে পারছে যে কেবলমাত্র বস্তুগত উন্নতি মনের শান্তি এনে দিতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস।
ইসলামিক জীবনদর্শনে পরিবার হলো প্রশান্তির কেন্দ্রস্থল। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে যে আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো (সূরা আর-রুম, ৩০:২১)। ২০২৬ সালের এই অস্থির সময়ে অনেক দম্পতি এখন তাদের কর্মব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় একে অপরকে গুণগত সময় দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখছেন। সুন্নাহর শিক্ষা অনুযায়ী ছোটদের স্নেহ করা এবং বড়দের শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে পরিবারের ভেতরে যে শৃঙ্খলা ফিরে আসে তা মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। অনেক মনোবিজ্ঞানী এখন স্বীকার করছেন যে মুসলিম পরিবারগুলোতে ‘সিলাত আল-রাহিম’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার যে জোর দেওয়া হয়েছে তা একাকীত্ব দূর করার সেরা উপায়।
উম্মাহ কণ্ঠের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে তারা এখন সপ্তাহের একটি দিন ‘ডিজিটাল মুক্ত’ রাখার চেষ্টা করছেন। এই সময়ে তারা সবাই মিলে একসাথে খাবার খান এবং একে অপরের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। নবী করিম (সা.)-এর সিরাত পাঠের মাধ্যমে তারা জানতে পারছেন কীভাবে ঘোর বিপদের সময়েও তিনি ধৈর্য বা সবর ধারণ করতেন। ২০২৬ সালের এই সংকটের দিনে সবরের শিক্ষা মুসলিম পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে। যখন পরিবারের প্রধান তার সন্তানদের আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল বা ভরসা করতে শেখান তখন সেই শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায় এবং তারা বাইরের জগতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে।
পারিবারিক বন্ধন মজবুত করার জন্য জুমার দিনটিকে অনেক পরিবার এখন উৎসবের দিন হিসেবে পালন করছে। এই দিনে সবাই মিলে ইবাদত করা এবং সামাজিকভাবে মেলামেশা করা তাদের একঘেয়েমি দূর করতে সাহায্য করছে। গবেষকদের মতে ২০২৬ সালের এই উচ্চচাপের যুগে যারা নিয়মিত পরিবারের সাথে আধ্যাত্মিক চর্চা করেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা মারাত্মক অবসাদ অনেক কম। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে মানুষের হৃদয় কেবল আল্লাহর জিকির বা স্মরণেই প্রশান্তি পায়। তাই ঘরগুলোকে জিকির এবং পারস্পরিক সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আলোকিত করাই এখন আধুনিক মুসলিম পরিবারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মানবিক ও আত্মিক চর্চায় পারে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দিতে।
