শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

২০২৬ সালের সংকট: হালাল উপার্জন ও পারিবারিক বরকতের সন্ধানে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৮, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

২০২৬ সালের সংকট: হালাল উপার্জন ও পারিবারিক বরকতের সন্ধানে

২০২৬ সালের মে মাসের এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে। এমন এক কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মুসলিম পরিবারগুলো তাদের জীবনযাত্রায় এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে। রয়টার্স এবং আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসে অনেক পরিবার বিলাসিতা বর্জন করে ‘ক্যানাত’ বা অল্পে তুষ্টির নীতি গ্রহণ করছে। তারা বুঝতে পারছে যে কেবল বেশি অর্থ উপার্জনেই সুখ নেই, বরং উপার্জনের উৎসটি কতটা পবিত্র বা হালাল তার ওপরই নির্ভর করে পারিবারিক ‘বরকত’ বা কল্যাণ।

ইসলামিক অর্থব্যবস্থায় হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শিক্ষা অনুযায়ী, ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুজি পূর্বশর্ত। ২০২৬ সালের এই কঠিন সময়ে অনেক মুসলিম চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ী অনৈতিক সুবিধা বা সুদী কারবার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন, এমনকি এর ফলে তাদের আয় কিছুটা কম হলেও। উম্মাহ কণ্ঠের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন গৃহকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে যে তারা এখন বেশি লাভের চেয়ে হারাম থেকে বেঁচে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে কম আয়ের মধ্যেও যে মানসিক প্রশান্তি এবং বরকত পাওয়া যায়, তা অবৈধ পথে আসা বিপুল সম্পদেও নেই।

পারিবারিক মিতব্যয়িতা এখন ২০২৬ সালের মুসলিম ঘরগুলোতে একটি আদর্শে পরিণত হয়েছে। অপচয় বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে কুরআনে বলা হয়েছে যে অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই (সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৭)। বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই শিক্ষাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার এখন অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ঘরোয়া খাবার ও সাধারণ পোশাকে অভ্যস্ত হচ্ছে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের ওপর কম নির্ভরশীল হচ্ছে এবং একে অপরের চাহিদাকে সম্মান করতে শিখছে। বিশেষ করে সন্তানদের শেখানো হচ্ছে যে আনন্দ কেবল দামি খেলনা বা পোশাকে নেই, বরং পরিবারের সাথে সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর মাঝেও রয়েছে।

অর্থনৈতিক এই সংকট অনেক পরিবারকে একে অপরের আরও কাছে নিয়ে এসেছে। আগে যেখানে সবাই নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আলাদা আলাদা ব্যস্ত থাকতেন, এখন তারা বাজেট নির্ধারণ এবং ব্যয় সংকোচনের জন্য এক টেবিলে বসছেন। এটি পারিবারিক শলা-পরামর্শ বা ‘শূরা’র সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে ২০২৬ সালের এই কঠিন সময়টি মুসলিম পরিবারগুলোকে তাদের প্রকৃত মূল্যবোধে ফিরে আসার এক সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে সম্পদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত এবং এর সঠিক ব্যবহারই পারে পরিবারের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। আড়ম্বরহীন কিন্তু হালাল ও সুখী জীবনই এখন ২০২৬ সালের মুসলিম সমাজের নতুন পরিচিতি।

banner
Link copied!