ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা এখন বিশ্বজুড়ে। আমরা জানি এটি ফুসফুসের ক্যান্সার বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি আমাদের হাড় ও জয়েন্টের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার অন্যতম কারণ। চিকিৎসকরা এখন সরাসরি সতর্ক করছেন যে, ধূমপানের কারণে শরীরে ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ বা জটিল বাতের রোগ দ্রুত থাবা বসাচ্ছে।ধূমপান কেবল ফুসফুসের শত্রু নয়, এটি অটোইমিউন সিস্টেমকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি জটিল অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত জয়েন্টের সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে বসে। গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের রাসায়নিক ফুসফুসে প্রবেশ করার পর অস্বাভাবিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে রক্তে ‘রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর’ এবং ‘অ্যান্টি-সিসিপি’-র মতো ক্ষতিকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে জয়েন্টে ব্যথা শুরুর কয়েক বছর আগেই রক্তে এই উপাদানগুলো জমতে শুরু করে।
বংশগতভাবে যাদের বাতের রোগের ইতিহাস রয়েছে, ধূমপান তাদের শরীরে এই রোগকে দ্রুত সক্রিয় করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর গবেষণায় আরও উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। ছোটবেলায় পরোক্ষ ধূমপানের বা প্যাসিভ স্মোকিং-এর শিকার হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে বড় হওয়ার পর রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাতের রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকে সাধারণ ক্লান্তি বা গা-হাত-পায়ের ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত আধা ঘণ্টার বেশি সময় জয়েন্ট বা গাঁট শক্ত হয়ে থাকা, আঙুল, কব্জি বা হাঁটুতে ফোলাভাব এবং উভয় হাত বা পায়ে একইসঙ্গে ব্যথা হওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ। হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া বা পানির বোতল ধরতে অসুবিধা হওয়াও বাতের ব্যথার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
ধূমপানের এই ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে এবং জয়েন্টের নমনীয়তা বজায় রাখতে ধূমপান ত্যাগ করার কোনো বিকল্প নেই। সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি, অন্যথায় এই রোগ কেড়ে নিতে পারে দৈনন্দিন চলাচলের স্বাভাবিক স্বাধীনতা।
