বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অ্যাংজাইটি কি শুধুই অতিরিক্ত চিন্তা নাকি মানসিক রোগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

অ্যাংজাইটি কি শুধুই অতিরিক্ত চিন্তা নাকি মানসিক রোগ

সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও অ্যাংজাইটি বা উৎকণ্ঠা এবং ডিপ্রেশনের মতো জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়ে গেছে। অনেকেই এই মানসিক অবস্থাগুলোকে সাধারণ দুঃখ বা সাময়িক অতিরিক্ত চিন্তা হিসেবে হালকাভাবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এগুলো কেবল মনের খেয়াল বা কোনো সাময়িক মানসিক দুর্বলতা নয়, বরং শরীর ও মনের এক অত্যন্ত জটিল ক্ষতিকর সমন্বিত অবস্থা।

দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এই মানসিক চাপ সরাসরি শারীরিক রোগে রূপ নেয়।

অ্যাংজাইটি আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কেবল অতিরিক্ত চিন্তাই দেখা যায় না, বরং এর সাথে বুক ধড়ফড় করা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অনিদ্রা এবং অবান্তর বিষয়ে তীব্র ভয়ের মতো শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ পায়। অনেক সময় ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজে বুঝতে পারেন যে তার ভয়টি যৌক্তিক নয়, তবুও তার শরীর ও মন এক অবর্ণনীয় অস্বস্তির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। অন্যদিকে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা সবসময় কেবল কান্না কিংবা প্রকাশ্য কান্নাকাটির মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। কোনো ব্যক্তি তার চারপাশের সবকিছুর প্রতি তীব্র অনাগ্রহী হয়ে পড়া এবং মনের ভেতর এক গভীর শূন্যতা অনুভব করাও ডিপ্রেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

যেকোনো স্তরের মানুষ এই গুরুতর মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার শিকার হতে পারেন।

পেশাজীবী, শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবক নির্বিশেষে যে কেউই এই লুকানো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন এবং একে দুর্বলতা মনে না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়াই আসল বুদ্ধিমত্তা। মানসিক কষ্ট চেপে রাখলে মস্তিষ্কে ও শরীরে ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। তাই বিশ্বস্ত মানুষের সাথে নিজের অনুভূতির কথা শেয়ার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

banner
Link copied!