বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দীর্ঘায়ু হতে জিম নয়, প্রতিদিন ৫ মিনিটের হাঁটাই যথেষ্ট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৯, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

দীর্ঘায়ু হতে জিম নয়, প্রতিদিন ৫ মিনিটের হাঁটাই যথেষ্ট

সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই, বরং দৈনন্দিন অভ্যাসের সামান্য পরিবর্তনই মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় দেড় লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। 

এই সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের আয়ু বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকরা।নতুন এই বৈজ্ঞানিক তথ্যটি অলস জীবনযাপন করা বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য এক বড় আশার আলো।

গবেষকদের মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার মতো সাধারণ কাজগুলো প্রায় ১০ শতাংশ অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারে। নরওয়েজিয়ান স্কুল অব স্পোর্টের শারীরিক কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অধ্যাপক উলফ একেলুন্ড জানান, দৈনিক মাত্র পাঁচ মিনিটের এই পরিবর্তন সামগ্রিক জনসংখ্যার স্তরে অত্যন্ত বড় এবং ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। তবে এর মানে এই নয় যে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যায়ামই সম্পূর্ণ যথেষ্ট, বরং এটি অলস বসে থাকার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করা উচিত। কিন্তু যারা ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে জিমে যেতে পারেন না, তারা প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এই ছোট ছোট শারীরিক কসরত যোগ করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমিয়ে আনলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ একস্থানে বসে থাকা হৃদরোগ ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‍‍`এক্সারসাইজ স্নাকিং‍‍` বা ছোট ছোট কিস্তিতে ব্যায়াম করা। সারাদিনে একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিটের জন্য শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে সক্রিয় করাই এর মূল লক্ষ্য। যেমন রান্না করার সময় কয়েকবার ওঠবস করা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া কিংবা প্রিয় কোনো গানের সাথে ঘরের ভেতরেই একটু নাচানাচি করা। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যখনই মানুষ শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে, তখনও শরীরের মেটাবলিজম কিছু সময়ের জন্য দ্রুত কাজ করতে থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

ব্রিটেনের লাফবোরো ইউনিভার্সিটির আচরণগত চিকিৎসা বিষয়ক গবেষকরা জানান, অলসতা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সচেতনভাবে ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা। যেমন কর্মক্ষেত্রে বা শপিং মলে যাওয়ার সময় গাড়িটি গন্তব্য থেকে অন্তত পাঁচ মিনিট দূরে পার্ক করা, যাতে বাধ্য হয়েই কিছুটা হাঁটাচলা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৭০০ কদম হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায়। তাই জীবনযাত্রাকে আমূল পরিবর্তন না করেও সামান্য সচেতনতার মাধ্যমেই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন লাভ করা সম্ভব।

banner
Link copied!