রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের স্কুলছাত্রী রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি এই ধরনের নৃশংসতা বন্ধে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযুক্তদের `নরপিশাচ` হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, সাত বছরের মেয়েও যাদের কাছে নিরাপদ নয়, তারা মানুষ হতে পারে না। নারী ও শিশুদের ওপর এমন বিকৃত অপরাধ ও সহিংসতা কমিয়ে আনতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তার মতে, অপরাধের মাত্রা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ইসলামি শরিয়া আইনই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির ওই ফ্ল্যাটে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় শৌচাগার থেকে এবং শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচে। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারকৃতরা হলো রিকশা মেকানিক জাকির হোসেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকৃত যৌনাচারের জেরে জাকির এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই জঘন্য অপরাধে তার স্ত্রীও তাকে সরাসরি সহায়তা করেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত জাকিরের বিরুদ্ধে এর আগে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
