শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ফিলিস্তিন ম্যারাথনে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ: গাজা যুদ্ধের ছায়া

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৮, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

ফিলিস্তিন ম্যারাথনে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ: গাজা যুদ্ধের ছায়া

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি যুদ্ধের ভয়াবহ ছায়ার মধ্যেই শুক্রবার পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরে দশম ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর এবার গাজাতেও একটি সমান্তরাল দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় বেথলেহেমের ঐতিহাসিক চার্চ অব দ্য নেটিভিটি থেকে ৪২ কিলোমিটারের মূল ম্যারাথনটি শুরু হয়। এতে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার দৌড়বিদ অংশ নেন।

ম্যারাথন সমন্বয়কারী ইতিদাল আবদুল ঘানি জানিয়েছেন যে এবারের প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল জন্মভূমির ঐক্য। ইসরায়েলি বিচ্ছিন্নতা ও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর তোয়াক্কা না করে ফিলিস্তিনের উভয় প্রান্তের মানুষ একই সঙ্গে এই ক্রীড়া উৎসবে সামিল হয়েছেন। গাজায় এই দৌড়টি শুরু হয় কেন্দ্রীয় গাজার ওয়াদি গাজা ব্রিজ থেকে উত্তরের দিকে। মূলত ৫ কিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র পরিসরের দৌড়টি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য প্রকাশ। এছাড়া ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বের ৮৮টি দেশে একটি ভার্চুয়াল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয় যাতে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।

সব মিলিয়ে এবারের ম্যারাথনে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গাজা থেকে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ২ হাজার ৫২৩ জন এবং বিশ্বের ৭৫টি দেশ থেকে প্রায় এক হাজার বিদেশি দৌড়বিদ ফিলিস্তিনে এসে এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছেন। ম্যারাথনটিতে ফুল ম্যারাথন ছাড়াও ২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটার ও ৫ কিলোমিটারের ফ্যামিলি রানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফিলিস্তিনের হায়ার কাউন্সিল ফর ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস, অলিম্পিক কমিটি এবং বেথলেহেম মিউনিসিপ্যালিটি যৌথভাবে এই বিশাল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে।

ম্যারাথনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পশ্চিম তীরে গত অক্টোবর থেকে সহিংসতার মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কেবল পশ্চিম তীরেই অন্তত ১ হাজার ১৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী ২২ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বেথলেহেমের উঁচু প্রাচীর এবং অসংখ্য ইসরায়েলি চেকপয়েন্টের মধ্য দিয়েই ম্যারাথনটি পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারী অনেক দৌড়বিদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা এবং গায়ে ঐতিহ্যবাহী কেফিয়েহ দেখা গেছে। তারা এই দৌড়কে কেবল একটি খেলা হিসেবে নয় বরং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এক শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ এবং গাজাবাসীর প্রতি সংহতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিরা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে খেলাধুলার মাধ্যমেও তারা তাদের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার দাবিকে সমুন্নত রাখতে জানেন।

banner
Link copied!