বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোটিভেশন

দুনিয়ার সৌন্দর্য ও আখিরাতের উদ্দেশ্য: মুমিনের করণীয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২০, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

দুনিয়ার সৌন্দর্য ও আখিরাতের উদ্দেশ্য: মুমিনের করণীয়

আল্লাহ তাআলা এই বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু অত্যন্ত সুন্দর ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। উদ্ভিদের সৌন্দর্য তার সবুজ পাতা ও রঙিন ফুলে, আর এর সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো শস্য ও ফল উৎপাদন করা। কাপড়ের সৌন্দর্য তার রং ও নকশায়, আর এর মূল লক্ষ্য মানুষের শরীর আবৃত ও সংরক্ষণ করা। তদ্রূপ পৃথিবীর সব সৌন্দর্য মানুষের চোখ ও মনকে আকর্ষণ করলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর দিকে পরিচালিত করা এবং আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুত করা।

দুনিয়ার এই বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে আছে এক মহান লক্ষ্য—ঈমান ও সৎ আমল।

মানুষ যখন এই মূল লক্ষ্য ভুলে যায়, তখন সে দুনিয়ার মোহে বন্দি হয়ে পড়ে। সে স্রষ্টাকে ভুলে সৃষ্টি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায় এবং এই ক্ষণস্থায়ী ভোগবিলাসকেই জীবনের মূল উদ্দেশ্য মনে করে। অথচ নবী-রাসুলরা ও তাঁদের অনুসারীরা দুনিয়ার চাকচিক্যে লিপ্ত হননি; বরং তাঁরা ঈমান, আমল, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দ্বিনের প্রচার-প্রসারে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিলেন। দুনিয়ার মায়া তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

বর্তমান যুগে মানুষ দুনিয়ার সৌন্দর্য, খেল-তামাশা ও বিলাসিতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট।

কিন্তু ইসলাম আমাদের দুনিয়া বর্জনের শিক্ষা দেয় না; বরং দুনিয়াকে আখিরাতের প্রস্তুতির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে শেখায়। প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি বিষয় গ্রহণের পাশাপাশি সাধ্যানুযায়ী সৎ আমল করা একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। ইবাদতের অর্থ শুধু নামাজ, রোজা বা হজ নয়, বরং দ্বিন পালনে সহায়ক প্রতিটি বৈধ কাজও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। জীবনের সৌন্দর্য, সম্পদ বা পদমর্যাদা যদি আল্লাহর আনুগত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে একজন মুমিন অবশ্যই নিজের প্রবৃত্তির চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দেবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তাতে তুমি আখিরাতের নিবাস অনুসন্ধান করো। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।’ (সুরা আল-কাসাস, ২৮:৭৭)।

এই আয়াতটি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক অনন্য দিকনির্দেশনা দেয়। অর্থাৎ, দুনিয়া ভোগ করা নিষেধ নয়, তবে তা যেন আখেরাতকে ভুলে যাওয়ার কারণ না হয়। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরে বলেন, ‘তোমরা জেনে রাখ যে দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, পারস্পরিক গর্ব এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র।’ (সুরা আল-হাদিদ, ৫৭:২০)।

দুনিয়ার এই প্রতিযোগিতায় বিভ্রান্ত না হয়ে আল্লাহ আমাদের জান্নাত ও ক্ষমার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে, তা তার জন্য শোভা করেছি, যাতে আমি পরীক্ষা করি—কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম।’ (সুরা আল-কাহাফ, ১৮:৭)। অতএব, দুনিয়ার সৌন্দর্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য নয়, বরং এটি একটি পরীক্ষা। সফল সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়াকে আখিরাতের পাথেয় হিসেবে ব্যবহার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানায়। ব্যর্থ সেই ব্যক্তি, যে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে পড়ে চিরস্থায়ী আখিরাতকে ভুলে যায়।

পরিশেষে, আমরা যেন দুনিয়ার চাকচিক্যে নিজেকে বিলিয়ে না দিই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের দুনিয়ার মোহ থেকে হেফাজত করুন। তিনি আমাদের ঈমান ও সৎ আমলের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। জীবন যেন শুধুমাত্র ভোগবিলাসে শেষ না হয়ে যায়, বরং তা যেন জান্নাত পাওয়ার মাধ্যম হয়—এই প্রার্থনাই মহান রবের দরবারে।

banner
Link copied!