ইসলামি শরিয়তে মানুষের সম্মান ও মর্যাদা কেবল জীবিতাবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং মৃত্যুর পরও তা সমানভাবে বহাল থাকে। পবিত্র কুরআনের সুরা বনি ইসরাঈল-এর ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বনি আদমকে সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সম্মান ও মর্যাদার অংশ হিসেবেই ইসলাম মৃত ব্যক্তির প্রতি সর্বোচ্চ যতœশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাই মৃত্যুর পর মৃতদেহকে সযত্নে কাফন পরানো, জানাজার নামাজ আদায় করা এবং সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাফন করা জীবিত সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কবরস্থান কেবল মৃতদের বিশ্রামস্থল নয়, বরং এটি একটি পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য হয়। ফিকহের কিতাবসমূহে মৃতদেহের সুরক্ষার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সাধারণ অবস্থায় এক কবরের ওপর আরেকজনকে দাফন করা, কবরের ওপর ঘর-বাড়ি নির্মাণ করা কিংবা কবরের ওপর বসা বা হাঁটা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির অসম্মান রোধ করা এবং তার পবিত্রতাকে রক্ষা করা। মৃতদেহ মাটি হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তার কবরের পবিত্রতা বজায় রাখা জীবিতদের ওপর ওয়াজিব।
তবে চরম জরুরি প্রয়োজন বা নিরুপায় পরিস্থিতিতে শরিয়তে কিছু ছাড় রয়েছে। কোনো কবরস্থান যদি সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যায় এবং নতুন কবর দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে, সেক্ষেত্রে কিছু শর্তসাপেক্ষে ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফিকহবিদদের মতে, পুরোনো কবরের লাশ যদি সম্পূর্ণ মাটি হয়ে মিশে যায় এবং সেখানে কোনো হাড় বা অবশিষ্টাংশ অবশিষ্ট না থাকে, তবে সেই জায়গায় নতুন কবর দেওয়া যেতে পারে। যদি মাটি সংস্কারের সময় পুরোনো কোনো হাড্ডি বা অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, তবে তা সরিয়ে ফেলা যাবে না। বরং সেগুলোকে সসম্মানে ওই কবরের এক পাশে বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে দাফন করে দিতে হবে।
যেখানে স্পষ্ট নতুন কবরের চিহ্ন রয়েছে এবং লাশ এখনো মাটি হয়ে যায়নি বলে প্রবল ধারণা হয়, সেখানে বিশেষ কোনো ওজর বা জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নতুন করে কবর খোঁড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাবয়িনুল হাকায়েক ও রদ্দুল মুহতারের মতো নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। কবরস্থানের মর্যাদা রক্ষা করা এবং প্রতিটি মৃত ব্যক্তিকে পৃথক সম্মান দেওয়ার বিষয়টি ইসলামি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবরস্থানকে কেবল মৃতদের আবাসন হিসেবে নয়, বরং পরকালের স্মারক হিসেবে গণ্য করা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব।
