বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানির আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ৬টি জরুরি মাসয়ালা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

কোরবানির আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ৬টি জরুরি মাসয়ালা

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং এই সময়ে কোরবানিদাতাদের জন্য নখ ও চুল না কাটার একটি বিশেষ সুন্নাত আমল রয়েছে। আল্লাহর রাসুল উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জিলহজের নতুন চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামের ফুকাহায়ে কেরামের মতে এটি একটি মোস্তাহাব বা উত্তম আমল, যার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের পুরো অস্তিত্ব নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির অপেক্ষায় থাকেন।

এই বিধান মূলত কেবল কোরবানিদাতার জন্যই প্রযোজ্য।

পরিবারের অন্য সদস্য যারা কোরবানির নিয়ত করেননি, তাদের জন্য এটি পালন করা বাধ্যতামূলক নয় বলে ইমাম নববীসহ অধিকাংশ আলেম মত দিয়েছেন। বাংলাদেশে এ বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে ১৮ মে সোমবার দিবাগত রাতে, তাই এই আমলটি যারা করতে চান তাদের আজ সন্ধ্যার আগেই নখ ও চুল পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। অনেকে মনে করেন এই সময়ে নখ বা চুল কাটলে কোরবানি বাতিল হয়ে যায়, যা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। কেউ ভুলে বা না জেনে এটি কেটে ফেললে কোরবানির কোনো ক্ষতি হয় না কিংবা কোনো কাফফারাও দিতে হয় না, তবে তিনি একটি ফজিলতপূর্ণ সুন্নাত থেকে বঞ্চিত হন।

ইসলামে পরিচ্ছন্নতার বিধানকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নখ বা অবাঞ্ছিত পশম ৪০ দিনের বেশি না কাটার যে নিষেধাজ্ঞা সহিহ হাদিসে রয়েছে, তার সাথে এই আমলের কোনো সংঘাত নেই। যদি জিলহজ মাসে কারো ৪০ দিন পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তাকে অবশ্যই নখ বা পশম কেটে পরিচ্ছন্ন হতে হবে। অন্যদিকে সামর্থ্য না থাকায় যারা কোরবানি দিতে পারছেন না, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুল একটি বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন। জিলহজের প্রথম দশ দিন নখ-চুল না কেটে ঈদের নামাজের পর তা পরিষ্কার করলে আল্লাহ তাআলা তাদের পূর্ণ একটি কোরবানির সওয়াব দান করতে পারেন বলে সুনানে আবু দাউদের হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এই আমলটি মূলত হাজিদের ইহরামের অবস্থার সাথে একটি প্রতীকী প্রকাশ তৈরি করে, যেন ঘরে থেকেও একজন মুমিন আল্লাহর ঘরের মেহমানদের আধ্যাত্মিক আবহ অনুভব করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম ও সুনানে আবু দাউদ

banner
Link copied!