ইসলাম ধর্মে প্রতিদিনের ইবাদত বিশেষ করে নামাজের পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন বা অজু করা। অজু করার সময় আমরা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ ধোয়ার কথাই ভাবি, তবে আল্লাহর রাসুল এমন একটি আমলের কথা বলেছেন যা পুরো শরীরকে আধ্যাত্মিক পবিত্রতায় মুড়িয়ে দেয়। সেই আমলটি হলো অজুর শুরুতে মাত্র একটি ছোট শব্দ উচ্চারণ করা, তা হলো ‘বিস্মিল্লাহ’।
এই একটি শব্দের বিনিময়ে এক অসীম অনুগ্রহ লাভ করা যায়।
সহিহ হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি অজু করার সময় আল্লাহর নাম নেয় তার পুরো শরীর পবিত্র হয়ে যায়। আর যে আল্লাহর নাম নেয় না, কেবল তার অজুর নির্দিষ্ট অঙ্গগুলোই পবিত্র হয়। অজুর শুরুতে বিস্মিল্লাহ বলা নিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল রয়েছে সুনানে আবু দাউদের একটি হাসন বা গ্রহণযোগ্য হাদিসে, যেখানে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি অজুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেয়নি তার অজু পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ইসলামি মুহাদ্দিসগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে এখানে অজু বাতিল হওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং অজুর ভেতরের যে পূর্ণ সওয়াব ও বরকত রয়েছে তার ঘাটতির কথা নির্দেশ করা হয়েছে।
তবে এই আমলটি নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাও রয়েছে। অনেক সময় বিভিন্ন অজুখানায় লেখা থাকে যে ‘বিস্মিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ’ পড়লে অজু ভাঙা পর্যন্ত ফেরেশতারা অনবরত সওয়াব লিখতে থাকে। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি ও ইমাম জাহাবির মতো প্রথম সারির হাদিস বিশেষজ্ঞরা এই বর্ণনাটিকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য বলে স্পষ্ট করেছেন। তাই অজুর শুরুতে কোনো বানোয়াট লম্বা দোয়ার ওপর ভরসা না করে শুধুমাত্র সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত ‘বিস্মিল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট।
দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট আমলটির প্রাপ্তি অত্যন্ত বিশাল।
ব্যস্ত জীবনে একজন মুমিনকে দিনে অন্তত পাঁচবার নামাজের জন্য অজু করতে হয়। প্রতিবার ওজুর কলের কাছে বসার সময় মুখে বা বাথরুমে থাকলে মনে মনে আল্লাহর নাম স্মরণ করার মাধ্যমে পুরো শরীর পবিত্র করার সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। এই প্রতীকী আমলটি মূলত একজন মুমিনকে সবসময় আল্লাহর স্মরণে নিমজ্জিত রাখতে সাহায্য করে।
