ইসলামি জীবনদর্শনে সময়ের বিবর্তন এবং যুগের অবক্ষয়ের মাঝে মুমিন বান্দার ঈমান ও ধৈর্য ধরে রাখার এক অনন্য নির্দেশনা রয়েছে। সহিহ বুখারির ৭০৬৮ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রখ্যাত তাবেঈ জুবায়ের ইবনু আদি বলেন, তারা একবার আল্লাহর রাসুলের বিশিষ্ট সাহাবি আনাস বিন মালিকের কাছে এসে তৎকালীন শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের চরম অত্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাদের সেই কষ্টের কথা শুনে প্রবীণ এই সাহাবি তাদের ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেন।
তিনি তাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী স্মরণ করিয়ে দেন।
আনাস বিন মালিক তাদের বলেন, সামনের দিনগুলোতে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ক্রমশ খারাপ হতে থাকবে এবং এই ধারা মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ বা কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। হাদিস গবেষকদের মতে, এই বাণীটি থেকে স্পষ্ট হয় যে যেকোনো পার্থিব সংকটে সাধারণ মানুষের উচিত অভিজ্ঞ আলেমদের দ্বারস্থ হওয়া এবং আলেমদের প্রধান দায়িত্ব হলো সঠিক পরামর্শ ও উপদেশের মাধ্যমে দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকা। দ্বীন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে মানুষের এই অধঃপতন একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে মুমিনরা হতাশ হয়ে নিজেদের আত্মোন্নয়নের চেষ্টা ছেড়ে দেবে। বরং শেষ জামানায় ঈমান ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও ধর্মীয় জ্ঞানচর্চায় যুক্ত থাকতে হবে। সমস্ত অবক্ষয়ের মাঝেও প্রত্যেক যুগে এমন একদল মানুষ থাকবে যারা সততা ও ধার্মিকতায় নিজেদের টিকিয়ে রাখবে এবং ধর্মীয় জ্ঞানচর্চায় পরস্পরকে ছাড়িয়ে যাবে।
