বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রীষ্মের ছুটিতে যাত্রীদের পকেট কাটছে এয়ারলাইন্সগুলো

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২০, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

গ্রীষ্মের ছুটিতে যাত্রীদের পকেট কাটছে এয়ারলাইন্সগুলো

গত কয়েক দশক ধরে বিমান চলাচলের মূল গল্পটি বদলায়নি। এয়ারলাইন্স এবং যাত্রীদের মধ্যে চলছে এক অলিখিত প্রতিযোগিতা। বিমান সংস্থাগুলো সবসময় যাত্রীদের পকেট থেকে টাকা বের করার নতুন উপায় খুঁজছে। জ্বালানি তেলের দাম ও কর বাড়ায় এ বছর তারা এই পকেট কাটার কৌশল আরও জোরদার করেছে।

ব্রিটিশ বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে বের হওয়া যাত্রীদের আটকে অন্তত সাতটি নতুন ফাঁদ পেতেছে।

যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার বা ড্রপ-অফ চার্জ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হুইচ? ট্রাভেলের সম্পাদক ররি বোল্যান্ড জানিয়েছেন, শুধু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর খরচই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। লুটন ডার্টের মতো কিছু গণপরিবহনের অতিরিক্ত খরচ নিয়েও দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

চলতি মাসের শুরুতে এডিনবরা বিমানবন্দর তাদের ড্রপ-অফ চার্জ ৬ পাউন্ড থেকে এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫০ পাউন্ড করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসা কর বাড়ানোকে দায়ী করেছে। তবে তারা একা নয়। জানুয়ারি মাসে গ্যাটউইক বিমানবন্দর তাদের চার্জ বাড়িয়ে সরাসরি ১০ পাউন্ড করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রথম বিমানবন্দর হিসেবে তারা এই সীমা ছাড়ায় এবং মার্চে স্ট্যানস্টেডও ঠিক একই পথে হাঁটে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ধরনের ড্রপ-অফ চার্জ প্রায় অজানা হলেও যুক্তরাজ্যে এটি এখন অলিখিত নিয়ম। বিজনেস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ক্লাইভ র্যাটেন জানান, টার্মিনালের দরজায় পৌঁছানোর জন্য কে কত বেশি চার্জ নিতে পারে, বিমানবন্দরগুলো এখন সেই নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

ব্যাগেজ ফি ও আসন নির্বাচনের ফাঁদ

কম খরচের এয়ারলাইন্সগুলোতে লাগেজের জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়া কয়েক দশকের পুরনো নিয়ম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ‍‍`ডায়নামিক প্রাইসিং‍‍` বা পরিবর্তনশীল মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে। ব্যাগের সঠিক দাম নির্ভর করবে আপনার ফ্লাইটের দূরত্ব এবং বছরের ঠিক কোন সময়ে ভ্রমণ করছেন তার ওপর। পিক সিজনে বা গ্রীষ্মের ছুটিতে এই ফি স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি থাকে।

তিন বছর আগে রায়ানএয়ারের একটি বড় কেবিন ব্যাগের দাম ছিল ৬ থেকে ৩০ পাউন্ডের মধ্যে।

এখন সেই একই ব্যাগের জন্য যাত্রীদের ১২ থেকে ৩৬ পাউন্ড গুনতে হচ্ছে। শুধু ফি বাড়িয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি। অতিরিক্ত মাপের ব্যাগ আনা যাত্রীদের ধরতে রায়ানএয়ার তাদের গেট স্টাফদের প্রতিটি ব্যাগের জন্য প্রায় ২ দশমিক ৫০ ইউরো নগদ বোনাস দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান মাইকেল ও‍‍`লিয়ারি এই বিতর্কিত নীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি জানান, এই বোনাস বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৫০ ইউরো করার কথা ভাবছেন তিনি।

লাগেজের পাশাপাশি আসন সংরক্ষণের ফিও মারাত্মকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে। বাজেট এয়ারলাইন্সগুলো তাদের শর্ত পুরোপুরি বদলে ফেলেছে। রায়ানএয়ারের একটি সাধারণ আসনের ফি পাঁচ বছরে ৫৪ শতাংশ বেড়ে ২০ পাউন্ড হয়েছে এবং লেগরুমসহ আসনের দাম ৩৬ দশমিক ৫০ পাউন্ডে ঠেকেছে।

দামি এয়ারলাইন্সগুলোও পিছিয়ে নেই। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের সাধারণ বিজনেস-ক্লাস যাত্রীদের চেক-ইন করার আগ পর্যন্ত সিট বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয় না। ততক্ষণে সবচেয়ে ভালো আসনগুলো বুক হয়ে যায়। লাস ভেগাসের একটি ফ্লাইটে প্রিমিয়াম আসন সংরক্ষণের জন্য ১৩০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে।

রায়ানএয়ার বা উইজ এয়ারের মতো সংস্থাগুলো এখন যাত্রীদের বিভিন্ন প্যাকেজের গোলকধাঁধায় ফেলছে। রেগুলার বা বেসিকের মতো নানা নামের প্যাকেজগুলো আপাতদৃষ্টিতে লোভনীয় মনে হলেও ভোক্তা অধিকার সংস্থা হুইচ? এগুলোকে টাকার চরম অপচয় বলে সতর্ক করেছে।

লাউঞ্জ সুবিধা ও খাবারে কড়াকড়ি

হুইচ? ১৫টি রায়ানএয়ার ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, বেসিক ভাড়ার সঙ্গে আলাদা সুবিধা যোগ করার চেয়ে তাদের ‍‍`রেগুলার‍‍` টিকিট কেনা বেশি দামি। এরপরও তারা প্রতিটি ধাপে রেগুলার প্যাকেজ বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যায়। বিজনেস-ক্লাস যাত্রীদের লাউঞ্জ সুবিধা থেকেও এখন বঞ্চিত করা হচ্ছে। টিকেটের মূল দাম কম দেখাতে গিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো লাউঞ্জ অ্যাক্সেস ও অতিরিক্ত লাগেজের সুবিধা নীরবে কেড়ে নিচ্ছে।

ইতিহাদ সম্প্রতি তাদের সবচেয়ে সস্তা বিজনেস-ক্লাস টিকিট থেকে আবুধাবির বিলাসবহুল লাউঞ্জ সুবিধা পুরোপুরি বাতিল করেছে।

খাবারের ক্ষেত্রেও কিপটেমি শুরু করেছে বিমান সংস্থাগুলো। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ছোট দূরত্বের বিজনেস রুটে গরম ব্রেকফাস্টের বদলে সস্তা কন্টিনেন্টাল খাবার দিচ্ছে। ভার্জিন আটলান্টিকও তাদের দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে অতিরিক্ত স্ন্যাকস বা খাবারের মেন্যু একেবারেই কমিয়ে দিয়েছে।

banner
Link copied!