গরমের এই সময়ে সর্দি-কাশি ও পরিবেশ দূষণের কারণে অ্যালার্জির সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ধুলাবালি, পরাগরেণু কিংবা হঠাৎ ঠান্ডা লাগার কারণে অনবরত হাঁচির সমস্যায় পড়েন অনেকেই। সারাদিনে দু-একবার হাঁচি হওয়া স্বাভাবিক হলেও এটি যখন অবিরাম চলতে থাকে, তখন তা দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ও বিশ্রামে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়।
নাকের ভেতরের কোনো উত্তেজক বস্তুকে বের করে দেওয়ার জন্য এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কড়া ওষুধ না খেয়ে কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নাক বন্ধ থাকা বা বার বার হাঁচির সমস্যায় সবচেয়ে দ্রুত আরাম মেলে ফুটন্ত গরম পানির ভাপ বা স্টিম নিলে। গরম বাষ্প নাকের ভেতরের জমা শ্লেষ্মা নরম করে শুষ্ক ভাব দূর করে, যার ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। এর পাশাপাশি একটি তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে নিংড়ে নিয়ে মুখে গরম সেঁক বা কমপ্রেস দিলেও সাইনাসের তীব্র অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করতে এই সময়ে ভিটামিন সি এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন সি কোশের ক্ষয় রোধ করে শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমায় এবং জিঙ্ক রাইনোভাইরাসের বংশবৃদ্ধি সরাসরি আটকে দেয়।
একই সঙ্গে আদা ও মধুর মিশ্রণ প্রাকৃতিক অ্যান্টিহিস্টামিন হিসেবে দারুণ কাজ করে।
আদায় থাকা বিশেষ প্রদাহরোধী উপাদান এবং মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ গলা ও নাকের ভেতরের শুষ্কতা দ্রুত কমিয়ে আনে। হালকা গরম পানিতে আদা ও মধু মিশিয়ে খেলে অনবরত হাঁচি ও সর্দির তীব্রতা অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হলে নাক ও গলার ভেতরের অংশ শুকিয়ে সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত সাধারণ পানি পানের পাশাপাশি ডাবের পানি, পাতলা সবজির স্যুপ কিংবা গরম ভেষজ চা পানের মাধ্যমে শরীরের বায়ুপথকে সর্বদা আর্দ্র রাখা উচিত।
সবশেষে এই ধরনের শারীরিক অস্বস্তিতে ক্লান্ত শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত ঘুম দেহের কোশ মেরামত করে অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনর্গঠন করে, যা আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের সাথে শরীরকে দ্রুত খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে।
