বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্ধ ঘরের ধুলা কোথা থেকে আসে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

বন্ধ ঘরের ধুলা কোথা থেকে আসে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

সকালে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে সূর্যের আলো ঢুকলে বাতাসে ভেসে বেড়ানো অসংখ্য ধূলিকণা স্পষ্ট চোখে পড়ে। কয়েক দিন ঘর বা আসবাবপত্র পরিষ্কার না করলেই সেখানে ধুলার একটি প্রলেপ জমে যায়, যা ঘরের পরিচ্ছন্নতাকে নষ্ট করে। তবে দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ রাখার পরেও কীভাবে ঘরের ধুলা এত দ্রুত জমা হয়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন যে, বদ্ধ ঘরের এই ধুলার এক বিশাল অংশ আসলে বাইরের কোনো ময়লা নয়, বরং মানুষের নিজের শরীর থেকে খসে পড়া মৃত চামড়া।

গবেষণায় দেখা গেছে একজন মানুষের শরীর থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কোটি মৃত কোষ ঝরে পড়ে।

মানবদেহের ত্বক সব সময় এক স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় নিজেকে নতুন করে তৈরি করতে থাকে। ভেতরের স্তরে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কোষের জন্ম হয় এবং সেগুলো ধীরে ধীরে চামড়ার উপরের স্তরে উঠে আসে। একপর্যায়ে পুরোনো ও অকেজো কোষগুলো সম্পূর্ণ মারা যায় এবং শরীর থেকে অবিরত খসে পড়তে থাকে। মানুষের দৈনন্দিন হাঁটাচলা, বিছানায় ঘুমানো, পোশাক বদলানো কিংবা সোফায় বসে থাকার সময় এই কোষগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ধুলার আস্তরণ তৈরি করে। এই অতি ক্ষুদ্র কোষগুলো খালি চোখে দেখা না গেলেও এগুলো ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রের ওপর জমা হয়ে আমাদের ঘরের ধুলা তৈরি করে।

এই আপাত অস্বস্তিকর ধুলার সঙ্গে ঘরের ভেতরে আরও একটি অদৃশ্য জীবনচক্র জড়িয়ে রয়েছে। ডাস্ট মাইট নামের অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক ধরনের অণুবীক্ষণিক প্রাণী মানুষের খসে পড়া এই মৃত চামড়া খেয়েই বেঁচে থাকে। সাধারণত মানুষের বিছানা, বালিশ ও মেঝের কার্পেটে এদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে এদের ক্ষতিকর মনে হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, এরা মূলত ঘরের পরিবেশ থেকে মৃত চামড়া খেয়ে সাবাড় করে এক ধরনের প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ভূমিকা পালন করে।

তবে মানুষের এই খসে পড়া মৃত চামড়া ঘরের বাতাসকে ক্ষতিকর দূষণ থেকেও মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

মানুষের ত্বক থেকে প্রাকৃতিকভাবে ‍‍`স্কোয়ালিন‍‍` নামের এক ধরনের তৈলাক্ত উপাদান নিঃসৃত হয়, যা ত্বককে সর্বদা আর্দ্র ও সতেজ রাখতে কাজ করে। খসে পড়া মৃত চামড়ার কোষেও এই তেলের উপস্থিতি থাকে, যা ঘরের বাতাসে মিশে থাকা ক্ষতিকর ওজোন গ্যাসের মাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে, স্কোয়ালিনযুক্ত এই মৃত কোষ ঘরের ভেতরের ওজোন গ্যাস প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে। এর ফলে ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই ওজোন দূষণ কমে ঘরের ভেতরের পরিবেশ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ থাকে।

banner
Link copied!