বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, লক্ষণ ও করণীয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৯, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, লক্ষণ ও করণীয়

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো জটিল শারীরিক সমস্যাকে সাধারণত বার্ধক্যজনিত রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যেও এই নীরব ঘাতকের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‍‍`পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন‍‍` বলা হয়, যা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ শিশুর শরীরে সনাক্ত করা গেছে। চিকিৎসা গবেষকদের মতে, শিশুদের অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটির সমস্যা থাকলে এই হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায় যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বড় ধরণের হুমকির মুখে ফেলছে।

এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।

একদম ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত কিডনি বা হার্টের জন্মগত সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা কোনো বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। তবে একটু বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ হলো আধুনিক লাইফস্টাইল বা ত্রুটিপূর্ণ জীবনযাত্রা। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড ও নোনতা খাবার খাওয়া, মোবাইল-টিভির স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে শারীরিক খেলাধুলা একবারে বন্ধ করে দেওয়া, অপরিমিত ঘুম এবং পড়াশোনার অত্যধিক মানসিক চাপ শিশুদের হাইপারটেনশনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাসে উচ্চ রক্তচাপের রেকর্ড থাকলে বংশগত কারণেও শিশুরা এতে আক্রান্ত হতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না, যার কারণে রোগটি অলক্ষ্যেই শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি করতে থাকে। তবে তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন বুক ধড়ফড় করা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং অতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে বাবা-মায়েদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই ঝুঁকি কমাতে শিশুদের প্রাত্যহিক স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দৈনিক অন্তত এক ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলার অভ্যাস করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাবারের পাতে অতিরিক্ত লবণ-চিনি বাদ দিয়ে তাজা ফলমূল ও ফ্যাট-মুক্ত প্রোটিন রাখা জরুরি।

banner
Link copied!