মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নতুন আন্দোলন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নতুন আন্দোলন

ছবি : সংগৃহীত

জার্মানির উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এক নতুন ধারার আন্দোলন শুরু হয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরায়েলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি দিনে দিনে জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাত শ শিক্ষার্থী এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার বাইরের চত্বরে আয়োজিত এক সভায় তারা প্রায় সর্বসম্মতভাবে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সাথে সব ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বন্ধের পক্ষে ভোট দেন। শিক্ষার্থীদের এই পদক্ষেপ জার্মানিতে ফিলিস্তিনি সংহতি আন্দোলনের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ইসরায়েলি অংশীদার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো দেশটির সামরিক কাঠামোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অরল্যান্ডো বেকার জানান যে, এসব বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি মারণাস্ত্র তৈরি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং সামরিক ইউনিটগুলোতে নিয়োগের কাজে সহায়তা করছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে একাডেমিক সম্পর্ক বজায় রাখা মানে প্রকারান্তরে তাদের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়া। শিক্ষার্থীদের মতে, একাডেমিক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

গত মার্চ মাস থেকে জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই আন্দোলনের গতি বেড়েছে। বার্লিন এবং ডুসেলডর্ফের মতো বড় বড় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও প্রতিবেদন তুলে ধরে অভিযোগ করছেন যে, ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে সম্পৃক্ত। উদাহরণ হিসেবে তারা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিজ্ঞানের নামে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্পের আড়ালে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা মনে করেন, ইসরায়েলি সরকার এমন গবেষণার ফলাফলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে দখলদারিত্বকে স্থায়ী করতে চায়।

জার্মানিতে বিডিএস বা বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট এবং স্যাংকশনস আন্দোলনকে সাধারণত চরমপন্থী হিসেবে দেখা হয়। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবুও তারা তাদের দাবিতে অটল। তারা মনে করেন, তথাকথিত একাডেমিক নিরপেক্ষতার নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। জার্মানির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো ইসরায়েলের বিষয়ে যে অবস্থান নেয়, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন তাকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে অ্যাকাডেমিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেক সমালোচক শিক্ষার্থীদের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলছেন যে, এতে শিক্ষার মুক্ত পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশীদার হতে দেওয়া যায় না। জার্মানির শিক্ষাঙ্গনে ফিলিস্তিন প্রশ্নে এই বিভাজন আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষাজীবনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই সংহতি প্রকাশ এক নতুন রাজনৈতিক সচেতনতার জন্ম দিচ্ছে, যা জার্মান সমাজের চিরাচরিত ইসরায়েল-নীতিকে নতুন করে পর্যালোচনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

banner
Link copied!