আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে একতরফা হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বেইজিংয়ে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর বুধবার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসে।
বিবৃতিটি মূলত বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের অখণ্ডতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট রাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এই ধরনের আচরণ সামগ্রিকভাবে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কোনো জলপথের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক মহল নিশ্চিত করেছে যে, এই বার্তা মূলত হরমুজ প্রণালি সংকটের দিকেই ইঙ্গিত করছে। বন্দরসহ সামুদ্রিক অবকাঠামোতে পারস্পরিক সহযোগিতা রাজনৈতিকীকরণের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে দুই পরাশক্তি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কিন্তু ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি এখনো স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। চীন ও রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সামুদ্রিক অবকাঠামো খাতের কার্যক্রম কোনো ধরনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেষ্টার আওতায় না এনে কেবল বাণিজ্যিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালনা করা উচিত।
