মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু: ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা তুঙ্গে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু: ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা তুঙ্গে

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, যা ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আল জাজিরা এবং এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রবিবার বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই নতুন করে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দক্ষিণ উপকূলীয় শহর টায়ারে রেড ক্রস কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন প্যারামেডিক রয়েছেন। টায়ারে অবস্থিত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের কিছু অংশ এই বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ শহরটিতে অবস্থানরত বাসিন্দাদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছে।

সিডন জেলার আল-মারওয়ানিয়া গ্রামে আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে আরও দশজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন। নাবাতিহ জেলার জেফতা গ্রামে পরিচালিত তৃতীয় আরেকটি হামলায় সাতজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন সিরীয় শিশু রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী টুলিন গ্রামে কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্যমতে, তারা কৌশলগত বিউফোর্ট ক্যাসল বা দুর্গ সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানে আঘাত হেনেছে। ইয়োহমোর আল-শাকিক গ্রামে দুটি ইসরায়েলি সামরিক বুলডোজার ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে তারা। এছাড়াও ইকলিম আল-তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে হেজবুল্লাহ।

ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলার জবাবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরান সতর্ক করেছে যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশটিতে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আট এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া উভয় দেশের মধ্যকার অঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে, কারণ সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

banner
Link copied!