মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় ৫ নিহত: কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ জিলেনস্কির

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় ৫ নিহত: কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ জিলেনস্কির

ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, খারকিভের চুহুইভ শহরে রাতের বেলায় চালানো এই হামলায় আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার এই হামলায় বেশ কিছু আবাসিক ভবন এবং দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খারকিভ শহরে একটি ড্রোন হামলায় ১৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

এদিকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ভাদিম ফিলাশকিন জানিয়েছেন, বিলোজারস্ক ও দ্রুজকিভকা এলাকায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া স্লোভিয়ানস্ক ও শাবেলকিভকা এলাকায় এই হামলায় ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়াও দেশজুড়ে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাচ্ছে।

যুদ্ধের মাঠের এই ভয়াবহতার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জিলেনস্কি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তার অত্যন্ত ইতিবাচক ফোনালাপ হয়েছে। জিলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের মনোযোগ এখন ইরানের দিকে থাকলেও ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তাদের এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।

লন্ডন সফর থেকে ফেরার পথে ব্রিটিশ, ফরাসি এবং জার্মান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জিলেনস্কি। তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গেও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সমর্থন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জি৭, ন্যাটো এবং অন্যান্য জোটের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনকে কীভাবে সহযোগিতা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন তারা। বিশেষ করে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি এবং সামরিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।

তবে শান্তি আলোচনার পথে এখনো বড় বাধা রয়েছে। জিলেনস্কি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পুতিনের আশেপাশে থাকা বিভিন্ন মানুষের মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তার এই বক্তব্যের জবাবে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এখন আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে, তারপরই কেবল দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

banner
Link copied!