মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝে ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর সোমবার দুই দেশ এই বিরতিতে সম্মত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক বার্তা দিয়ে দুই দেশকে সংযত থাকার এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও ইসরায়েল তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর জেরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়, যার ফলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত স্থায়িত্ব পায়নি। গত রবিবার যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করে ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে ইসরায়েল পাল্টা আঘাতের দাবি করে। এই নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করেছে। একইভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের কথা জানিয়েছে। তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকলে তারা আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে। মূলত, লেবানন ইস্যুটি এই যুদ্ধবিরতির শর্তের বাইরে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো হামলা চালানো হয় তবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ হলেও, দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই যুদ্ধবিরতি কতদিন কার্যকর থাকে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও শঙ্কা উভয়ই বিদ্যমান।
