মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আফ্রিকায় মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় এই সন্ত্রাসীকে নির্মূল করার যৌথ মিশনটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিহত ওই নেতার নাম আবু-বিলাল আল-মিনুকি, যাকে ২০২৩ সালেই ওয়াশিংটন বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত এই অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো বলছে, যদি এই খবরটি নিশ্চিত হয় তবে ২০১৯ সালে আইএসের মূল প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হওয়ার পর এটিই হবে গোষ্ঠীটির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। আবু-বিলাল আল-মিনুকি পুরো আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত আইএস নেটওয়ার্কের বিভিন্ন সেল পরিচালনা করতেন। বিশেষ করে ‘ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স’ (আইএসডব্লিউএপি) গঠনে ও পরিচালনায় তার প্রধান ভূমিকা ছিল। এই গোষ্ঠীটি লেক চাদ অববাহিকা এবং সাহেল অঞ্চলসহ নাইজেরিয়া, নাইজার, চাদ ও মালির সীমান্ত জুড়ে সক্রিয় রয়েছে।
ট্রাম্প তার বার্তায় এই সফল অভিযানের জন্য নাইজেরীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আল-মিনুকি আর আফ্রিকার মানুষকে আতঙ্কিত করতে পারবে না এবং আমেরিকানদের ওপর হামলার পরিকল্পনাও করতে পারবে না। তবে এই যৌথ অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময়কাল বা কৌশলগত বিবরণ সম্পর্কে ট্রাম্পের পোস্ট থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। আইএসের বৈশ্বিক অর্থায়ন ও কমান্ড কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই হত্যাকাণ্ড একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগ্রপন্থী সহিংসতা মোকাবিলায় নাইজেরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এপ্রিল মাসে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আদামাওয়া রাজ্যে একটি ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হওয়ার পর আইএস তার দায় স্বীকার করেছিল। এর আগে গত বছরের ক্রিসমাসের সময়ও দেশটির সোকোটো রাজ্যে আইএস সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছিল। বিবিসি এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসন ও নাইজেরিয়া কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
