রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অ্যান্ডি বার্নহামের ওয়েস্টমিনস্টারে প্রত্যাবর্তন চান ফিলিপসন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৬, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

অ্যান্ডি বার্নহামের ওয়েস্টমিনস্টারে প্রত্যাবর্তন চান ফিলিপসন

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের সংকটের মাঝেই প্রথম কোনো শীর্ষ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের ওয়েস্টমিনস্টারে প্রত্যাবর্তন সমর্থন করেছেন শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন। আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বর্তমান মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম লেবার পার্টির হয়ে একটি শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিবিসি রেডিও ফোরের এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিপসন জানান, বার্নহামের সংসদ সদস্য হিসেবে ফিরে আসার পথে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (এনইসি) কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ভরাডুবির পর প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

ইতিমধ্যেই দলের অন্তত ৯৬ জন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য সচিবের পদ থেকে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের আকস্মিক পদত্যাগ এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চার এবং সাবেক শ্যাডো মিনিস্টার বিল এস্টারসনও ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, কিয়ার স্টারমারের অবিলম্বে জাতীয় স্বার্থে সরে দাঁড়ানো উচিত। দলীয় এমপিদের একাংশের ধারণা, বার্নহাম যদি মেকারফিল্ড আসন থেকে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরেন, তবে কিয়ার স্টারমার নিজেই তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পথ ছেড়ে দিতে পারেন।

মেকারফিল্ডের স্থানীয় এমপি জশ সাইমনস মূলত অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য আসনটি ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করেছেন, যা ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই আসনটির সাধারণ ভোটারদের সবাই বার্নহামের এই আকস্মিক পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা মনে করছেন বার্নহাম কেবল ডাউনিং স্ট্রিটের শীর্ষ ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যেই এই উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, এলাকার উন্নয়নে তার বিশেষ মনোযোগ থাকবে না। অন্যদিকে, ইউগভ (YouGov) এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে গেছে, ৩১ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যেখানে ২৭ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।

স্টারমারের অনুগত এমপি নীল কয়েল অবশ্য বার্নহামের এই পরিকল্পনাকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। করোনাকালীন সময়ে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বার্নহামকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বলা হলেও, কয়েল তাকে ‘কিং নুইসেন্স’ বা এক উপদ্রব হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, বার্নহামের এই ফিরে আসার চেষ্টা দলের মধ্যে আরও বেশি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও অন্তর্কোন্দল তৈরি করবে। এদিকে বরখাস্ত হওয়া লেবার এমপি কার্ল টার্নার দাবি করেছেন যে, নতুন যিনিই দলের নেতৃত্বে আসুন না কেন, তাকে অবশ্যই ডায়ান অ্যাবটের মতো প্রবীণ নেতাদের দলে পুনর্বহাল করতে হবে।

এই তীব্র রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যেই আজ বিকেলে প্রোগ্রেস কনফারেন্সে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন পদত্যাগী স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি তার পদত্যাগপত্রে ডাউনিং স্ট্রিটের বর্তমান নীতিকে লক্ষ্যহীন বলে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কিয়ার স্টারমার জনসমক্ষে নিজের অনমনীয় ভাব দেখালেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি বেশ ভেঙে পড়েছেন এবং দলের সব বিকল্প পথ বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।

banner
Link copied!