বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

থমকে গেছে শান্তি আলোচনা, ইরানকে ট্রাম্প বললেন ‘সময় শেষ হয়ে আসছে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

থমকে গেছে শান্তি আলোচনা, ইরানকে ট্রাম্প বললেন ‘সময় শেষ হয়ে আসছে

চলতি সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে তেহরানের জন্য সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশটির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না বলে তিনি হুমকি দেন।

উভয় পক্ষের আলোচনা এখন এক চরম অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার আগে ট্রাম্প রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন কোনো সুনির্দিষ্ট ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক পূর্বেও ট্রাম্প একই ধরনের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে তেহরান চুক্তিতে না এলে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘লাইফ সাপোর্ট’-এ রয়েছে বলে অভিহিত করেন এবং তেহরানের দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অবশ্য তেহরানের এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও উদার বলে উল্লেখ করেছেন।

তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যার মধ্যে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং হরমূজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার শর্তও দিয়েছে তারা।

ওয়াশিংটনও তেহরানের সামনে পাঁচটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

আমেরিকার শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানকে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্র সচল রাখার অনুমতি দেওয়া এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা। তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে ২০ বছরের জন্য তা স্থগিত রাখার প্রস্তাব মেনে নিতে পারেন। একে মার্কিন অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে Horoscope দেখা হচ্ছে, কারণ এর আগে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আলোচনা শুরুর সুবিধার্থে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি দেওয়া হলেও মাঝে মাঝেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমূজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর বিপরীতে ইরানকে শর্ত মানতে বাধ্য করতে দেশটির বন্দরগুলোতে কঠোর নৌঅবরোধ বজায় রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো রফাসূত্র মেলেনি।

banner
Link copied!