বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা প্রত্যাহার করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৯, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা প্রত্যাহার করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ভারতীয় ধনকুবের এবং আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা সমস্ত ফৌজদারি জালিয়াতির মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। একটি পৃথক সিভিল বা দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিলেন। নিউ ইয়র্কের একটি জেলা আদালত এই মামলাটি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করার আদেশ জারি করেছে বলে আইনি নথিপত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই আইনি নাটকীয় মোড়ের ফলে গৌতম আদানির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

একই সঙ্গে আদানি গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজ ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একটি পৃথক তদন্তের নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে। কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে আমেরিকার মাটিতে আদানির বিরুদ্ধে থাকা তিনটি প্রধান আইনি মামলারই অবসান ঘটল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার মামলাগুলোর প্রসিকিউশন কমিয়ে আনার যে সাধারণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এটি তারই অংশ। ৬৩ বছর বয়সী গৌতম আদানি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা ভারতের বড় আকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সুবিধা পেতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন। আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এই গুরুতর অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছিল। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টা এবং আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী ল ফার্মের প্রধান রবার্ট জে গিউফ্রা জুনিয়রকে নিজেদের নতুন আইনজীবী প্যানেলে যুক্ত করার পরেই মামলার গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। গিউফ্রা গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে এই মামলার অসংগতিগুলো তুলে ধরেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আইনজীবীরা আদানির মামলাটি প্রত্যাহারের বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই একই প্রতিশ্রুতি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পরপরই আদানির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও আদানির বিরুদ্ধে আনা সিভিল জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়, যার বিনিময়ে আদানি ও তার ভাগ্নে সাগর আদানি যৌথভাবে ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন।

ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে আদানি এন্টারপ্রাইজ দুবাইভিত্তিক একটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি ক্রয় করেছিল। নথিপত্রে এই গ্যাস ওমান এবং ইরাকের বলে দাবি করা হলেও মূলত তা ইরান থেকে আমদানি করা হয়েছিল, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন। এই লেনদেনের কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়। তবে সমস্ত জরিমানা ও শর্ত মেনে নেওয়ার মাধ্যমে আদানি গ্রুপ তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলো।

banner
Link copied!