বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানের কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ, কারণ জানাল প্রশাসন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৯, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

ইরানের কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ, কারণ জানাল প্রশাসন

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে অবস্থিত ইরানের সামরিক ঘাঁটি সমৃদ্ধ কেশম দ্বীপে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পারস্য উপসাগরের এই সংবেদনশীল অঞ্চলে আকস্মিক এই বিস্ফোরণের জেরে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো নতুন সামরিক হামলা শুরু করল কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তবে ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ সামরিক সূত্রের বরাতে নিশ্চিত করেছে যে, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা বা নতুন শত্রুভাবাপন্ন আক্রমণ ছিল না।

মূলত পূর্ববর্তী যুদ্ধকালীন সময়ের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ধ্বংস করার কারণেই এই বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়েছিল।

স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক শত্রুপক্ষের ফেলে যাওয়া বা আগে থেকে জমে থাকা অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নিষ্ক্রিয় ও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার সময় এই জোরালো আওয়াজ হয়। দেশটির আরেকটি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ প্রথম এই বিস্ফোরণের খবরটি ছড়ালেও প্রাথমিক অবস্থায় তারা সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে না পারায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বন্দর আব্বাস নগরী থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে ইরানের রেগুলার আর্মি ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের শক্তিশালী বিমান ও নৌ ঘাঁটি রয়েছে, যার কারণে অঞ্চলটি সর্বদা কঠোরতম নজরদারিতে রাখা হয়।

এদিকে এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যার মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক গোপন সামরিক পরিকল্পনা ফাঁস করেছিল। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে পেন্টাগন ইরানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত না করে দেশটির প্রধান দুটি কৌশলগত দ্বীপ—কেশম ও খোর্গ দখল করার পরিকল্পনা করছে। এই ধরণের আন্তর্জাতিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে কেশম দ্বীপের যেকোনো ধরণের সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি করিডোর ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

banner
Link copied!