দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র থাইল্যান্ডের সরকার তাদের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি ও পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির রাজকীয় ক্যাবিনেট বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা দীর্ঘমেয়াদি অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা কমিয়ে নতুন একটি স্তরভিত্তিক বা টায়ার্ড ভিসা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই নীতিমালার কারণে এখন থেকে পর্যটকদের ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া থাকার সুযোগ বাতিল করে তা সর্বোচ্চ ৩০ দিন নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এই প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে এবং ট্রাভেল এজেন্টদের মাঝে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
থাই সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধনাদরেক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী দীর্ঘ মেয়াদের ভিসা সুবিধার সুযোগ নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র এবং ব্যক্তি এর অপব্যবহার করছিল। এর ফলে দেশটিতে অবৈধ ব্যবসা, অননুমোদিত কর্মসংস্থান, অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং মানব ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন নিয়মে স্থল সীমান্ত দিয়ে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ দুইবার প্রবেশের সীমাও কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে পর্যটকদের আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এই ৬০ দিনের দীর্ঘ ভিসা নীতি চালু করা হয়েছিল। তবে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই নতুন সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার। থাইল্যান্ডের সামগ্রিক জিডিপির ১০ শতাংশেরও বেশি পর্যটন খাত থেকে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটক আগমন প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার মতো নেতিবাচক পরিসংখ্যানের মধ্যেই এই নতুন রেগুলেশন বা নিয়মনীতি সামনে এলো।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
