বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ওয়াশিংটনকে দেওয়া ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবের শর্ত ফাঁস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

ওয়াশিংটনকে দেওয়া ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবের শর্ত ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির উদ্দেশ্যে একাধিক কঠোর শর্ত সম্বলিত একটি প্রস্তাব পেশ করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই অভাবনীয় কূটনৈতিক প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ও জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তসমূহ জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন, যা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।

এই নতুন প্রস্তাবের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হলো।

ঘোষিত শর্তানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরণের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে প্রথমত লেবাননসহ সমগ্র অঞ্চলের সবকটি ফ্রন্টে একযোগে সমস্ত সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানকে পরিবেষ্টিত করে রাখা কৌশলগত অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সশস্ত্র বাহিনী বা সৈন্য প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। এছাড়া চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে হওয়া সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটন এবং ইসরায়েলকে যৌথভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ইরানের ওপর মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং বিদেশে অবৈধভাবে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার শর্তও এই শান্তি প্রস্তাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর তৈরি করা অন্যায্য নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া ছাড়া তেহরান কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সই করবে না। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া রাজনৈতিকভাবে এক প্রকার অসম্ভব। এর আগে ইরানের দেওয়া একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অবমাননাকর ও অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যার তুলনায় নতুন এই নথিতে তেহরান নিজের অনড় অবস্থান বজায় রেখে বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি।

এদিকে সোমবার রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‍‍`ট্রুথ সোশ্যাল‍‍`-এ দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে একটি বড় ধরনের মার্কিন বিমান হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর বিশেষ অনুরোধে শেষ মুহূর্তে সেই অপারেশন স্থগিত রাখা হয়। ট্রাম্প তার পোস্টে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিলেও, ইরানের এই কড়া শর্ত ঘোষণার পর ওয়াশিংটন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বর্তমান বৈশ্বিক সমীকরণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এমন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে একদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক সংলাপ চললেও অন্য সীমান্তগুলোতে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি সমভাবে বিদ্যমান। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোনো পক্ষই এখনই তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়তে রাজি না হওয়ায় শান্তি প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ মাঠের লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করছে।

banner
Link copied!