আর মাত্র তিন সপ্তাহ পর উত্তর আমেরিকায় শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮ দলের এই বিশাল টুর্নামেন্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় লাতিন আমেরিকার দলগুলোর দিকে বাড়তি নজর রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এই মহাযজ্ঞ দেখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফিফা এখনো ভারতে টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে পারেনি।
কোনো বড় টিভি চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম স্বত্ব কিনতে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। অথচ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ভারতের ফুটবল উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই আসরে প্রায় সাড়ে সাত কোটির বেশি দর্শক বিভিন্ন মাধ্যমে খেলা উপভোগ করেছিলেন। রিলায়েন্সের জিওসিনেমা মাত্র ছয় কোটি ডলারে স্বত্ব কিনে ফাইনালে রেকর্ড দর্শক টেনেছিল এবং ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সফল হয়েছিল।
ফিফা শুরুতে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলার চেয়েছিল। দাম অনেক কমানোর পরও ক্রেতা মিলছে না।
সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সময়ের বিশাল ব্যবধান।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ভারতের সময়ের ব্যবধান ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এর ফলে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি খেলা ভারতীয় সময় অনুযায়ী মাঝরাতের আগে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটিও দেখতে হবে রাত সাড়ে ১২টায়। গভীর রাতের এসব ম্যাচ ঘিরে দর্শক সংখ্যা তলানিতে নামার আশঙ্কা করছেন সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের ক্রীড়া বাজার মূলত ক্রিকেটনির্ভর।
আইপিএল শেষ হতে না হতেই বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে, ফলে স্পন্সরশিপ নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের বাজেটের বিশাল অংশ এরই মধ্যে ক্রিকেটে খরচ করে ফেলেছেন। মাঝরাতের খেলার জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করাকে সম্প্রচারকারীরা সরাসরি ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
তাছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগার সম্প্রচার স্বত্বের দাম কমে যাওয়ায় ফুটবলের বাজার নিম্নমুখী হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট। ফ্যান্টাসি স্পোর্টস অ্যাপের ওপর সরকারি কড়াকড়ি এবং নিয়ন্ত্রণ ক্রীড়া বিনোদন খাতে নগদ অর্থপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ চীন এরই মধ্যে ফিফার সঙ্গে তাদের সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
ভারতে শেষ পর্যন্ত কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না কিনলে সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনের ওপরই হয়তো ভরসা করতে হবে। সময়মতো সমাধান না মিললে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার দর্শক বেআইনি পাইরেটেড স্ট্রিমিংয়ের দিকে ঝুঁকবেন। আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারকদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে।
