২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ান বিরাট কোহলি। সাত বছরের দীর্ঘ মেয়াদে ভারতকে ৬৮টি টেস্টের মধ্যে ৪০টিতে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। তবে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত অনেক ভক্তকেই মর্মাহত করেছিল। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের নেতৃত্ব হারানোর পর টেস্ট থেকে কোহলির সরে দাঁড়ানোর আসল কারণটি এত দিন অজানা ছিল।
অবশেষে এই সিদ্ধান্তের পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার।
`আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব`-এর ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটে কোহলি স্বীকার করেছেন, অধিনায়কত্ব অজান্তেই তার ভেতরের সত্তাকে পুরোপুরি গ্রাস করেছিল। তিনি বলেন, এমন একটি অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিলাম যেখানে ব্যাটিং ও নেতৃত্ব—উভয় বিষয়েরই মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলাম। ভারতীয় ক্রিকেটকে শীর্ষে রাখার অনুপ্রাণিত নেশায় আমি বুঝতে পারিনি যে এগুলো দৈনন্দিন জীবনে কতটা মানসিক চাপ তৈরি করছে। নেতৃত্ব ছাড়ার সময়টাতে তিনি নিজেকে পুরোপুরি নিঃশেষ অনুভব করছিলেন বলেও মন্তব্য করেন।
মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা সামলানো তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তিনি জানান, তার সেরা সময়ে মূল লক্ষ্য ছিল ড্রেসিংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর জন্য তিনি রবি শাস্ত্রী ও তার দলকে কৃতিত্ব দেন। তবে ফর্ম পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি দায়িত্বই তার ওপর মারাত্মক বোঝা হয়ে চেপে বসে। অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরের সময়টা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হলেও তিনি রাহুল দ্রাবিড় ও বিক্রম রাঠোরের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
কোহলি জানান, নেতৃত্বে থাকাকালীন তিনি যা হারিয়েছিলেন, দ্রাবিড় ও রাঠোরের সান্নিধ্যে তা আবার খুঁজে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, তারা আমার যেভাবে যত্ন নিয়েছিলেন তা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আমি আবারও মাঠে গিয়ে লড়াই করতে চাই। ২০২৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ফর্মে ফেরার ক্ষেত্রে দ্রাবিড় ও রাঠোরের স্নেহশীল ভূমিকা তাকে নতুন করে ক্রিকেটের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল। তাদের কারণেই তিনি এখন মাঠের লড়াইয়ে আবারও আগের মতো আত্মবিশ্বাসী।
