নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও ধারণ করার মতো গুরুতর নৈতিক অপরাধের দায়ে চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নারী দলের সাবেক কোচ পিটার ভ্লাচোভস্কিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। ফুটবল-সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চেক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল সংস্থাটি।
এর আগে ঘরোয়া ক্লাব এফসি স্লোভাচকোর নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপন ক্যামেরা পাতার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দায় স্বীকার করে কোচ ভ্লাচোভস্কি সে সময় নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। চেক আদালতের বিচারে তাকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ঘরোয়া পর্যায়ে পাঁচ বছরের জন্য কোচিং করানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে উয়েফার কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) এই অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় রেখে তাকে বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকাণ্ড থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
উয়েফার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য এই অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে একজন বিশেষ ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হয়েছিল।
তদন্ত শেষে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। ভ্লাচোভস্কির কর্মকাণ্ডকে ক্রীড়াঙ্গনের নৈতিকতা ও ফুটবলারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চূড়ান্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে উয়েফা। একজন কোচের কাছ থেকে এমন আচরণকে কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয় বলে মনে করে সংস্থাটি। এই শাস্তির ফলে ভ্লাচোভস্কি এখন থেকে আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া—কোনো পর্যায়েই ফুটবল কোচিং বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
ফুটবল জগতে এমন কঠোর শাস্তির নজির খুব একটা দেখা যায় না।
খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উয়েফার এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এমন অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভ্লাচোভস্কির এই কাণ্ডে চেক ফুটবল মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন উয়েফার এই নিষেধাজ্ঞার পর বিষয়টি চূড়ান্ত পরিণতি পেল।
