২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন মাঠের ফুটবলে বড় প্রভাব ফেলেছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাতীয় দলের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচের জন্য নির্ধারিত টিকিট বরাদ্দ বাতিল করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুর মাত্র তিন দিন আগে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। তারা একে ফুটবলীয় চেতনা পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে অভিহিত করে ফিফার কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশ তাদের ম্যাচের মোট গ্যালারি ধারণক্ষমতার আট শতাংশ টিকিট পাওয়ার অধিকারী। ইরান ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা ফিফার কাছ থেকে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের টিকিট পাওয়ার পর সমর্থকদের কাছে বিক্রি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্র এই বরাদ্দ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন একজন সমর্থকের জন্যও টিকিট সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সমর্থক ইতিমধ্যেই বিমান ও হোটেলের বুকিং সম্পন্ন করেছেন, যা তাদের জন্য চরম হতাশাজনক।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক যুদ্ধকালীন সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বৈরিতার প্রভাব পড়েছে মাঠের বাইরে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও। ইরান জানিয়েছে, তাদের সহকারী কোচ, ফিজিও ও প্রশাসনিক প্যানেলের প্রায় ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভিসা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এই আমলাতান্ত্রিক বাধার কারণে ইরান তাদের মূল বিশ্বকাপ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানাতে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে।
ফিফা ও স্থানীয় আয়োজকদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। তারা বলেছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করে। ইরান আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে দলটি। খেলার মাঠের উত্তেজনার চেয়ে এখন মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক বিতর্কই টুর্নামেন্টের শুরুতে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফিফা এই সংকটের সমাধান করতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
