অনেকেই এখন সারাক্ষণ হাতে স্মার্টওয়াচ পরে থাকতে পছন্দ করেন না। তাদের জন্য বাজারে এসেছে চমৎকার এক গ্যাজেট, যা দেখতে সাধারণ আংটির মতো হলেও কাজ করবে স্বাস্থ্য সচেতন স্মার্ট ডিভাইসের মতো। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এটি মূলত ‘স্মার্ট রিং’ নামে পরিচিত। কোনো রকমের ঝামেলা ছাড়াই এটি সারাদিন, এমনকি ঘুমানোর সময়ও আঙুলে পরে থাকা যায়।
স্মার্ট রিং হলো আঙুলে পরার উপযোগী ছোট ও হালকা এক স্মার্ট ডিভাইস।
এর ভেতরে থাকে উন্নত সেন্সর, প্রসেসর, ব্যাটারি এবং ওয়্যারলেস ফিচার। এটি শরীরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরে স্মার্টফোনের অ্যাপের সাহায্যে সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেয়। আঙুলে রক্তপ্রবাহ বেশি থাকায় এই আংটির সেন্সরগুলো স্মার্টওয়াচের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে কাজ করতে সক্ষম।
সাধারণত এসব রিংয়ে হার্ট রেট সেন্সর, তাপমাত্রা মাপার সেন্সর এবং রক্তে অক্সিজেন পরিমাপের সুবিধা থাকে।
এগুলো শরীরের মানসিক চাপের মাত্রা বা স্ট্রেস, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং ঘুমের মান পর্যবেক্ষণ করে। স্মার্টফোনের অ্যাপে গ্রাফ ও রিপোর্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারী ক্যালোরি খরচ, স্টেপ কাউন্ট কিংবা রিকভারি স্কোর খুব সহজেই দেখতে পান। স্মার্টওয়াচের তুলনায় এটি অনেক বেশি আরামদায়ক হওয়ায় অনেকে এখন এটিকেই বেছে নিচ্ছেন।
উন্নত প্রযুক্তির কিছু স্মার্ট রিংয়ে নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসি সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা টাচ-লেস পেমেন্ট, দরজা আনলক করা কিংবা পরিচয় যাচাইয়ের মতো জরুরি কাজগুলো সেরে নিতে পারেন। বর্তমানে আউরা রিং, স্যামসাং গ্যালাক্সি রিং এবং আল্ট্রাহিউম্যান রিং এয়ারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে। যারা স্মার্টওয়াচের বিকল্প হিসেবে আরও সাদামাটা ও সুবিধাজনক স্বাস্থ্য-পর্যবেক্ষণ ডিভাইস খুঁজছেন, তাদের জন্য এই স্মার্ট রিং প্রযুক্তি একটি দুর্দান্ত পছন্দ হতে পারে।
