বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজের পরবর্তী সংস্করণ গ্যালাক্সি S26 আল্ট্রা বাজারে আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই বহুল প্রতীক্ষিত স্মার্টফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সমন্বয় এবং নতুন সব ফিচারের মাধ্যমে স্যামসাং আবারও স্মার্টফোন বাজারে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে। এই ডিভাইসটিতে ডিজাইন এবং পারফরম্যান্স উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।
গ্যালাক্সি S26 আল্ট্রা স্মার্টফোনটিতে ৬.৯ ইঞ্চির বিশাল ডায়নামিক এলটিপিও অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এর রেজোলিউশন ১৪৪০x৩১২০ পিক্সেল এবং এটি ২৬০০ নিটস পর্যন্ত সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা প্রদান করতে সক্ষম। স্ক্রিন সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা আর্মার ২ ডিএক্স প্রযুক্তি। ফোনের বডিতে গ্রেড ৫ টাইটানিয়াম ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে যা ফোনটিকে যেমন মজবুত করবে তেমনি প্রিমিয়াম লুক প্রদান করবে। এর ওজন ধরা হয়েছে ২১৪ গ্রাম এবং পুরুত্ব মাত্র ৭.৯ মিমি।
স্মার্টফোনটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা সিস্টেম। ডিভাইসটির পেছনে ২০০ মেগাপিক্সেলের মূল সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে যার অ্যাপারচার f/1.4। এছাড়া দূরবর্তী ছবি তোলার জন্য ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স রয়েছে যা ৫এক্স অপটিক্যাল জুম সমর্থন করে। ভিডিওগ্রাফির জন্য এতে ৮কে রেজোলিউশনে ভিডিও ধারণের সুবিধা রাখা হয়েছে। সেলফি প্রেমীদের জন্য সামনে ১২ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মোবাইল ফটোগ্রাফিতে এই ফোনটি এক নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পারফরম্যান্সের দিক থেকে ফোনটি অত্যন্ত শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপসেট যা ৩ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এবং স্যামসাংয়ের নিজস্ব ওয়ান ইউআই ৮.৫ ইন্টারফেস। স্যামসাং ঘোষণা করেছে যে এই ফোনে পরবর্তী ৭ বছর পর্যন্ত মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা ১২ জিবি এবং ১৬ জিবি র্যামের পাশাপাশি ২৫৬ জিবি থেকে ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ ভেরিয়েন্টে ফোনটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে এতে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে যা ৬০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। এর ফলে মাত্র ৩০ মিনিটেই ফোনটি ৭৫ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব হবে। এছাড়া ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধাও এতে বিদ্যমান। ইউরোপীয় বাজারে এই ফোনটির সম্ভাব্য দাম রাখা হয়েছে প্রায় ১৪৭০ ইউরো। উন্নত কানেক্টিভিটির জন্য এতে ৫জি, ওয়াই-ফাই ৭ এবং ব্লুটুথ ৫.৪ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
