বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তাৎক্ষণিক এআই উত্তর কীভাবে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

তাৎক্ষণিক এআই উত্তর কীভাবে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে?

ইউনাইটেড কিংডমের ঐতিহ্যবাহী বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনিচ সতর্ক করে জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলের মাধ্যমে সব প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়ার ব্যবস্থা মানুষের সহজাত মেধা ও বুদ্ধিমত্তাকে কমিয়ে দিতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পরিচিত এই সংস্থাটি বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচ গ্রুপের পরিচালক প্যাডি রজার্স বলেন, শত শত বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষের কৌতূহল ও মেধার শক্তিকে প্রমাণ করে, যা কোনো যন্ত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক উত্তরের ওপর নির্ভরতা মানুষের মেধার বিকাশ রুখে দিচ্ছে।

রজার্স উল্লেখ করেন, কেবল এআই প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়লে মানুষ নতুন কিছু খোঁজার বা মূল্যায়ন করার অভ্যাস হারিয়ে ফেলবে, যা জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মূল ভিত্তি। রয়্যাল অবজারভেটরিতে চলমান ‍‍`ফার্স্ট লাইট‍‍` নামক একটি প্রকল্পের রূপান্তরের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো গত ৩৫০ বছরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাজের আবেগ ও বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি স্পষ্ট করেন যে আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ছাড়া অতীতের বড় বড় আবিষ্কারগুলো হয়তো সম্ভব হতো না, তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষ নিজে থেকে প্রশ্ন তুলতে শিখেছিল।

অতীতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আকাশ নিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

তাদের সেই কাজগুলো এমন কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল যা তারা নিজেরাও কখনো ভাবেননি। রজার্স বিবিসির সাথে আলাপকালে বলেন, মানুষ এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজ করে যা একটি যন্ত্র বা রোবট কখনো করবে না। কিন্তু মানুষের তৈরি সেই তথ্যগুলোই ১৫০ বছর পর পৃথিবীতে নৌচলাচলের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ের প্রভাব যাচাই করতে বড় সম্পদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের তৈরি তথ্যের গভীরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এআই-এর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা অসম্ভব।

অবশ্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্যার ডেমিস হাসাবিস প্রোটিনের গঠন নিখুঁতভাবে অনুমান করার জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ডিপমাইন্ডের প্রধান ejecutivo হাসাবিস ‍‍`আলফাফোল্ড২‍‍` নামক একটি এআইツール ব্যবহার করে এই বিপ্লবী সাফল্য অর্জন করেন। অন্যদিকে লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান এআই-কে মানুষের চিন্তার একটি পরিপূরক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিজের আইডিয়া বা ধারণার ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে এআই-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটির একজন প্রভাষক গত বছরের জুন মাসে জানিয়েছিলেন যে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হলে এআই শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যদি তাদের নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতা পুরোপুরি এই প্রযুক্তির কাছে সমর্পণ করে দেয়, তবে তা মানব মেধার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে চ্যাটবট, ইমেজ জেনারেটর এবং উন্নত এআই মডেলগুলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিকশিত হচ্ছে, যা মানুষের মেধার মৌলিকত্বকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

banner
Link copied!