ফ্রান্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা এক কিশোরীর ডিজিটাল অবয়বের ফাঁদে পড়ে আইনি হেফাজতে নিয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার শিশু নির্যাতনকারীদের ধরতে ইন্টারনেটে এই অভিনব ফাঁদ পেতেছিলেন। ওই সাবেক শিক্ষক অনলাইনের মাধ্যমে নিজেকে ১৪ বছর বয়সী ভাবা এক কিশোরীর কাছে অনৈতিক ও যৌন প্রস্তাব দেওয়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই পূর্ব ফ্রান্সের একটি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
ডমিনিক বি নামের ৬৬ বছর বয়সী ওই সাবেক শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর ফরাসি বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনার একটি লাইভ কথোপকথন সম্প্রচার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একপাশে ওই সাবেক শিক্ষক একটি চেয়ারে বসে আছেন এবং অন্যপাশে `ফিনিজি` নামের এক পুরুষ ইনফ্লুয়েন্সার এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের মুখে একটি মেয়ের অবয়ব ও কণ্ঠস্বর বসিয়ে কথা বলছেন। ভিডিওতে চিবুকের দাড়ি লুকাতে ইনফ্লুয়েন্সার হাত দিয়ে মুখ চেপে রাখলেও ওই সাবেক শিক্ষক আক্ষরিক অর্থেই বোকা বনে যান।
প্রায় ৪০ মিনিটের ওই দীর্ঘ লাইভ চ্যাটটি সরাসরি ৪০ হাজারেরও বেশি দর্শক দেখেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে এটি প্রায় ১০ লাখ বার দেখা হয়েছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই সাবেক শিক্ষক কিশোরী রূপী এআই অ্যাকাউন্টটিকে প্যারিসের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে দেখা করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি তাকে বিভিন্ন আপত্তিকর প্রশ্ন করেন এবং নিজের নগ্ন ছবি দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যখন তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে মেয়েটির বয়স মাত্র ১৪ বছর, তখন তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকাভাবে উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে এর চেয়ে কম বয়সী মেয়েরাও আজকাল শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়।
লাইভ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অনেক দর্শক ফরাসি সরকারের অনলাইন অপরাধ বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম `ফারোস`-এ অভিযোগ জানান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই সামাজিক চাপের মুখে ওই ব্যক্তি থানায় হাজির হন। স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলি জানান, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে যৌন প্রস্তাব পাঠানো এবং পর্নোগ্রাফিক উদ্দেশ্যে শিশুর ছবি চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ওই ব্যক্তি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্কুল স্পোর্টসের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই ঘটনার পর ফ্রান্সে এ ধরণের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অপরাধী ধরার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরা। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইনফ্লুয়েন্সাররা সত্যিই পুলিশকে সাহায্য করতে চান নাকি কেবল নিজেদের পেইজের ভিউ বা প্রচার বাড়াতে এই কাজ করছেন তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ সদিচ্ছা থাকলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে না ছেড়ে সরাসরি পুলিশের কাছে দেওয়া যেত। এছাড়া এই ধরণের ব্যক্তিগত তৎপরতা পুলিশের চলমান কোনো গোপন তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই এই ইনফ্লুয়েন্সারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
