হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্মোট্রিচ নিজেই এই পরোয়ানার কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেগ এই চরম আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।
স্মোট্রিচ তার বিরুদ্ধে জারি করা এই আন্তর্জাতিক পরোয়ানাকে সরাসরি `যুদ্ধ ঘোষণা` বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি এই পদক্ষেপের প্রচণ্ড প্রতিশোধ নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। এই কট্টরপন্থী নেতা জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই খান আল-আহমার গ্রামটি খালি করার একটি আদেশে স্বাক্ষর করবেন। এর মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওই নির্দিষ্ট গ্রাম থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তর করা হবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামটির বাসিন্দারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং গাজায় অনাহার সৃষ্টির পরিকল্পনার কারণেই আইসিসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের স্থানান্তরের প্রতি স্মোট্রিচের প্রকাশ্য সমর্থনও এই পরোয়ানার অন্যতম কারণ হতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ওই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে আইসিসির বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি এবং অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা আইসিসির কর্মকর্তাদের অ্যাকাউন্ট ও সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসিতে বর্তমানে ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে, যারা রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো এখনো এই আদালতের সদস্য হয়নি। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দ্য হেগে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তারা মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
