বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্ডি হামলার নায়ককে ভাইদের হুমকি, নিহতের ক্যামেরা চুরি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২১, ২০২৬, ০১:২১ পিএম

বন্ডি হামলার নায়ককে ভাইদের হুমকি, নিহতের ক্যামেরা চুরি

সিডনির বন্ডি বিচে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির ক্যামেরা চুরির অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ফটোগ্রাফারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে ওই ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ক্যামেরাটি উদ্ধার করা হয়। তল্লাশির সময় পুলিশ তার কাছ থেকে হাতকড়া, কিছু সাদা ক্রিস্টাল পাউডার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি নিজেও ওই অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছিলেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর বন্ডি বিচে হনুক্কা উৎসব চলাকালীন বন্দুকধারীরা ভিড়ের মধ্যে গুলি চালালে ১৫ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও ফটোগ্রাফার পিটার মেহার। অভিযুক্ত ব্যক্তি পিটারেরই ক্যামেরা চুরি করে হামলার কয়েকদিন পর তা বন্ধক রেখেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, চোরাই মাল হস্তান্তর ও বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কঠোর শর্তসাপেক্ষে তিনি জামিন পেয়েছেন এবং আগামী মাসে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে। গত মার্চ মাসে পিটারের স্ত্রী ভার্জিনিয়া ফেসবুকে স্বামীর ক্যামেরাটি ফেরত চেয়ে আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, আর্চার পার্ক থেকে কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি ক্যামেরাটি তুলে নিয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।এদিকে একই হামলার আরেক ঘটনায় নতুন আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

 

ওই দিন বন্দুকধারী সাজিদ আকরামকে জাপটে ধরে বিপুল প্রশংসিত হয়েছিলেন সিরীয়-অস্ট্রেলীয় দোকান মালিক আহমেদ আল আহমেদ। হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে তিনি নিজেও কয়েকবার গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাঁর হাতে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়। বীরত্বপূর্ণ এই কাজের পর বিশ্বজুড়ে তাঁর জন্য প্রায় ২৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।

কিন্তু এখন সেই তহবিলের ভাগ নিয়েই নিজের ভাইদের চাঁদাবাজির মুখে পড়েছেন আহমেদ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দুই ভাই হোজিফা ও সামেহ আল আহমেদ তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রত্যেকে এক লাখ ডলার করে চাঁদা দাবি করেছেন। হোজিফা টেলিফোনে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, টাকা না দিলে তাঁর মাথা বুটের নিচে পিষে ফেলা হবে এবং অন্য হাতটিও ভেঙে দেওয়া হবে।

নিজেদের নির্দোষ দাবি করে গত বুধবার দুই ভাই আদালতে হাজির হয়েছেন।

হামলার পর তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসে প্রথমে আহমেদের সঙ্গেই থাকতেন, তবে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পর আহমেদ অন্য বাড়িতে চলে যান। আগামী জুলাইয়ে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত দুই ভাইকে আহমেদের কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

banner
Link copied!