শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ইরান: ওশেন কোই আটক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৮, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ইরান: ওশেন কোই আটক

ওমান উপসাগরে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘ওশেন কোই’ নামক একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, বার্বাডোজের পতাকাবাহী এই জাহাজটি ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও তেল রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছিল। ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী আইআরজিসি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে তাদের সদস্যদের হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট ব্যবহার করে জাহাজটিতে আরোহণ করতে দেখা যায়।

ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে নৌবাহিনীর রেঞ্জার ও মেরিন সদস্যরা জাহাজটিকে আটক করে দেশটির দক্ষিণ উপকূলে নিয়ে গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা আঞ্চলিক জলসীমায় ইরানি জনগণের সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা আইন লঙ্ঘন বরদাশত করা হবে না। মেরিন ট্র্যাকার নামক জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্যমতে, ওশেন কোই জাহাজটি বার্বাডোজে নিবন্ধিত এবং এটি ওমান উপসাগর দিয়ে চলাচলের সময় ইরানি বাহিনীর কবলে পড়ে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রসুল সরদার জানিয়েছেন যে এই ঘটনাটি কেবল একটি জাহাজ জব্দ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইরানের রণকৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান মনে করছে যে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের কৌশলগত পরিবেশ বদলে দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো তাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন একটি নতুন ‘সামুদ্রিক শাসন ব্যবস্থা’ বা মেরিটাইম রেজিম চালু করতে যাচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ইরানের নতুন এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’। এই নবগঠিত কর্তৃপক্ষ এখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা-যাওয়া করা সমস্ত জাহাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো জাহাজকে এই প্রণালী অতিক্রম করতে হলে আগেভাগেই ইরানি বাহিনীর কাছ থেকে পূর্ণ সমন্বয় ও অনুমতি নিতে হবে। জাহাজের গন্তব্য, বহনকৃত মালামাল এবং কোন দেশের জাহাজ—এসব বিস্তারিত তথ্য ইমেলের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

ইরান এই নতুন নীতিমালায় আরও একটি কঠোর পদক্ষেপ যুক্ত করেছে, যা হলো টোল বা মাশুল আদায়। তেহরান জানিয়েছে যে তারা প্রতিটি জাহাজের তথ্য বিশ্লেষণ করবে এবং সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি বা টোল আদায়ের দাবি জানাবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, ফলে ইরানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ছাড়বে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ওশেন কোই জব্দ করার ঘটনাটি আসলে ইরানের সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি প্রতীকী রূপ। এর মাধ্যমে তেহরান বিশ্ব শক্তিগুলোকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তাদের অনুমোদন ছাড়া এই কৌশলগত পথে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানের এই ‘নতুন সামুদ্রিক বিধিমালা’ সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। ওয়াশিংটন বা আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাগুলো ইরানের এই টোল আদায়ের নিয়মকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!