তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ভারত। দক্ষিণী চলচ্চিত্রের মহাতারকা থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল `তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম` (টিভিকে) অবশেষে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার ৮ মে চেন্নাইয়ের পানেইউরে বিজয়ের বাসভবনের সামনে সমর্থকদের ব্যাপক স্লোগান এবং আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার আভাস পাওয়া গেছে। এনডিটিভি এবং এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, চার দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে বিজয় আজ সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আর ভি আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন।
গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। এটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের ৬২ বছরের একচেটিয়া আধিপত্যকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসনের `ম্যাজিক ফিগার` স্পর্শ করতে না পারায় গত কয়েকদিন ধরে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা চলছিল। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থালাপতি বিজয় অত্যন্ত কৌশলে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার দুপুরের দিকে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক এবং ভিসিকে (বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি) সহ বামপন্থী দলগুলোর সমর্থন বিজয়ের পক্ষে আসার পর সরকার গঠনের পথ সুগম হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে ১০৮টি আসনে থাকলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে বর্তমানে তাদের পক্ষে ১২০-এর বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের পরাজয় এই নির্বাচনে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজয়ের এই বিশাল সাফল্যের পেছনে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক সংগঠন `বিজয় মক্কল আইয়াক্কাম`-এর ৮৫ হাজারেরও বেশি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীর অবদান রয়েছে। তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। দ্য হিন্দু পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, থালাপতি বিজয় দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে, যা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজ রাতে রাজভবন থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজয় তার নির্বাচনি প্রচারে ‘সামাজিক বিচার, ধর্মনিপেক্ষতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার এই বিজয় কেবল একজন অভিনেতার রাজনীতিতে আসা নয়, বরং তামিল জনগণের দীর্ঘদিনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আগামী রবিবার চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে থালাপতি বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেখানে দক্ষিণ ভারতের শীর্ষ তারকাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতে পারেন। উম্মাহ কণ্ঠের প্রতিনিধিরা চেন্নাই থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি খবরের ওপর নজর রাখছেন।
