বোতসোয়ানার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফেস্টাস মোগায়ে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার দেশটির বর্তমান সরকার তার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই দেশটির আধুনিক রূপকারদের একজন হিসেবে পরিচিত মোগায়ে তার সুশাসন এবং এইচআইভি/এইডসের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।
ফেস্টাস মোগায়ে ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বোতসোয়ানার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদ। তার দুই মেয়াদের দশ বছরের শাসনামলে বোতসোয়ানা শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে যখন বোতসোয়ানা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ এইচআইভি সংক্রমণের হারের মুখোমুখি ছিল, তখন মোগায়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করেন। তার গৃহীত ব্যাপকভিত্তিক চিকিৎসা কর্মসূচি আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বোতসোয়ানার বর্তমান প্রেসিডেন্ট দুমা বোকো এক বিবৃতিতে মোগায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন যে জাতি একজন অসাধারণ নেতা ও জনসেবককে হারাল। দেশের প্রতি মোগায়ের প্রতিশ্রুতি আজীবন অটল ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৩৯ সালের ২১ আগস্ট সেরোওয়েতে জন্মগ্রহণ করা মোগায়ে ব্রিটেনে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬৬ সালে বোতসোয়ানার স্বাধীনতার পরপরই সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির অর্থমন্ত্রী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মোগায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। ২০০৮ সালে সংবিধান মেনে দুই মেয়াদ শেষ করে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান খামার হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এই উদাহরণ বোতসোয়ানাকে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের তুলনায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার এই নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইব্রাহিম প্রাইজ’ প্রদান করা হয়, যা আফ্রিকান নেতাদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত।
প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসরের পরও মোগায়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি দক্ষিণ সুদানের শান্তি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে গঠিত ‘জয়েন্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন কমিশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে শান্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার মৃত্যুতে কেবল বোতসোয়ানা নয়, সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ একজন প্রজ্ঞাবান ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। মোগায়ের রেখে যাওয়া আদর্শ ও সুশাসনের ভিত্তি বোতসোয়ানার ভবিষ্যতের জন্য এক অনন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
