বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাইওয়ানের অনড় অবস্থান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাইওয়ানের অনড় অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তাইওয়ানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, তাইওয়ান কোনো ধরনের সংঘাত উসকে দেবে না, তবে বেইজিংয়ের চাপের মুখে নিজের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা বিলিয়ে দেবে না। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এটিই লাই চিং-তের প্রথম সরাসরি ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সমস্যা বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন শি জিনপিং। এই বিষয়টি ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে দুই পরাশক্তির মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বেইজিং সফর শেষ করে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাইওয়ানকে সতর্ক করে বলেন যে তিনি কাউকে নতুন করে স্বাধীন হতে দেখতে চান না। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম দিতে আইনিভাবে বাধ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে তারা কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না। তবে অস্ত্র বিক্রয়ের বিষয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হলেও ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি কোনো পক্ষকেই সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। ১৯৮২ সালের একটি নিরাপত্তা চুক্তি অনুযায়ী তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো প্রকার পরামর্শ না করার যে লিখিত প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটনের ছিল, সে প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে ১৯৮০-র দশক এখন অনেক দূরের অতীত।

তাইওয়ানের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে।

প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবং তার পূর্বসূরি সাই ইং-ওয়েনের প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে দাবি করে আসছে যে তাইওয়ানের নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ তারা তাইওয়ানকে বা রিপাবলিক অব চায়নাকে ইতিমধ্যে একটি স্বাধীন ও সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লাই লিখেছেন যে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ অবশ্যই দেশটির সর্বস্তরের মানুষের গণতান্ত্রিক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। বেইজিং অবশ্য লাই চিং-তেকে শুরু থেকেই একজন বিপজ্জনক উসকানিদাতা এবং দুই পক্ষের শান্তি বিনষ্টকারী শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে।

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সামরিক অস্ত্র বিক্রয়ের ঐতিহাসিক অনুমোদন দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তাইওয়ানের চারপাশে নিয়মিত সামরিক মহড়া এবং নৌ ও বিমান অবরোধের মহড়া ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। লাই চিং-তে রোববার তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বজায় রাখার জন্য ট্রাম্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানান। বেইজিংয়ের সামরিক শক্তির বিস্তার মোকাবিলায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি ও একটি মূল উপাদান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

banner
Link copied!