বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নারী হিসেবে রেকর্ড গড়ে ১১তম বার এভারেস্ট জয় ল্যাকপার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

নারী হিসেবে রেকর্ড গড়ে ১১তম বার এভারেস্ট জয় ল্যাকপার

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন নেপালের দুই বিখ্যাত পর্বতারোহী। ‍‍`এভারেস্ট ম্যান‍‍` নামে পরিচিত ৫৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মাউন্টেন গাইড কামি রিতা শেরপা রেকর্ড ৩২তম বারের মতো এভারেস্টের চূড়া জয় করে নিজের গড়া বিশ্ব রেকর্ডটি আবারও ভেঙেছেন। গত রোববার (১৭ মে) একদল আন্তর্জাতিক আরোহীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এই পর্বত শৃঙ্গে পৌঁছান।

একই দিনে নারীদের ক্যাটাগরিতেও সর্বোচ্চ জয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

‍‍`ماউন্টেন কুইন‍‍` বা পর্বতের রানি নামে পরিচিত ৫২ বছর বয়সী ল্যাকপা শেরপা ১১তম বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখে নারীদের মধ্যে নিজের আগের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। নেপালের পর্যটন বিভাগ এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য দুই আরোহীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে এই ঐতিহাসিক সাফল্য কেবল অবিচল সাহস, কঠোর স্ব-শৃঙ্খলা এবং কাজের প্রতি সৎ নিষ্ঠার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। কামি রিতা শেরপা ১৯৯৪ সালে প্রথমবার এভারেস্ট জয় করেছিলেন এবং তারপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তিনি এই দুর্গম চূড়ায় আরোহণ করছেন।

নেপালের সোলুখুম্বু অঞ্চলের এক পর্বতারোহী পরিবারে কামি রিতার জন্ম। ২০১৮ সালে তিনি ২২তম বার এভারেস্ট জয় করে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক হন, যার পর তার সমসাময়িক অন্য গাইডরা অবসর নেন। এবার তিনি ‍‍`১৪ পিকস এক্সপেডিশন‍‍` কোম্পানির হয়ে আরোহীদের গাইড হিসেবে কাজ করার সময় এই চূড়ায় পৌঁছান। অন্যদিকে ২০০০ সালে প্রথমবার এভারেস্ট জয় করে ল্যাকপা শেরপা প্রথম নেপালি নারী হিসেবে সফলভাবে চূড়ায় উঠে আবার নিরাপদে নেমে আসার কীর্তি গড়েছিলেন।

তার জীবন নিয়ে ২০২৩ সালে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি হয়েছে।

‍‍`মাউন্টেন কুইন‍‍` শিরোনামের সেই তথ্যচিত্রে ল্যাকপার একাধিকবার এভারেস্ট জয় এবং একজন একক মা হিসেবে তার জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়। চলতি বছর এভারেস্ট আরোহণের জন্য রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্বতারোহীকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে বেস ক্যাম্প থেকে ওপরে ওঠার পথে একটি বিশাল ও বিপজ্জনক হিমবাহের খণ্ড রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখায় এবার চূড়ায় পৌঁছানোর রুট তৈরিতে বেশ বিলম্ব হয়েছে। এর ফলে পর্বতের ওপর দীর্ঘ জটলা বা ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হতে পারে বলে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

banner
Link copied!