জার্মানির লাইপজিগ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী খামারে খাঁচা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি বিশাল বাঘকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির সশস্ত্র পুলিশ। বাঘটির আকস্মিক আক্রমণে ওই খামারের ৭২ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গত রোববার স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে প্রথম জরুরি ফোন কলটি আসে এবং দ্রুত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
হামলার পর বাঘটি তার নির্দিষ্ট খাঁচা ভেঙে বাইরে চলে আসে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, বাঘটি খাঁচা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। আর কোনো মানুষের যেন ক্ষতি না হয়, সেই ঝুঁকি এড়াতেই বাঘটিকে দেখা মাত্রই গুলি করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পুরুষ বাঘটি জার্মানির বিতর্কিত বন্যপ্রাণী প্রশিক্ষক কারমেন জান্ডারের মালিকানাধীন ছিল। তিনি নিজেকে জার্মানির ‘টাইগার কুইন’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং শকেউডিজ শহরের কাছের ওই শিল্প এলাকায় আটটি বড় জাতের বাঘ লালন-পালন করছিলেন। বাঘটি ঠিক কীভাবে এবং কোন ত্রুটির কারণে খাঁচা থেকে বের হতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন একটি গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আশেপাশের বাসিন্দারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এই শিল্প এলাকায় বন্যপ্রাণীগুলোকে উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতো না। বন্যপ্রাণী অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা পিইটিএ এই ঘটনার পর তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। তারা বেসরকারিভাবে বাঘ বা হিংস্র প্রাণী পোষার ক্ষেত্রে সরকারের কাছে আরও কঠোর আইনি বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। কারমেন জান্ডারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষকে ২৫০ কেজি ওজনের এই বাঘগুলোকে স্পর্শ করার এবং ছবি তোলার বিতর্কিত সুযোগ দিতেন।
খামারের অন্য সাতটি বাঘের কোনোটি বাইরে বের হতে পারেনি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ খামার এবং এর আশেপাশের এলাকায় ড্রোন দিয়ে নিবিড় তল্লাশি চালিয়েছে। স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট মেয়র থমাস ড্রুস্কাট বাকি হিংস্র প্রাণীগুলোকে অবিলম্বে এই জনবহুল এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বাঘটি যদি লোকালয়ে প্রবেশ করত তবে যে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত তা চিন্তারও বাইরে। পুলিশ এই ঘটনার সমস্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে আদালতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করছে।
