বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মালিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত ১০

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

মালিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত ১০

আফ্রিকার দেশ মালির মধ্যাঞ্চলের সান এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী গণবিয়ের অনুষ্ঠানে দেশটির সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় তেনে এলাকার বাসিন্দারা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই ভয়াবহ রক্তপাতের সত্যতা জানিয়েছে।

আনন্দের মুহূর্তটি মুহূর্তের মধ্যে গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গ্রামের মানুষ একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক গণবিয়ের দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সময় একটির পেছনে আরেকটি চলতে থাকা মোটরসাইকেলের একটি দীর্ঘ মিছিলকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন স্ট্রাইকটি চালানো হয়। সামরিক বাহিনীর ড্রোন সম্ভবত এই মিছিলটিকে কোনো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুভমেন্ট মনে করে ভুলবশত আঘাত হেনেছে। হামলায় ঘটনাস্থলেই অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান, যাদের স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সন্তান বলে উল্লেখ করেছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জেএনআইএম এবং এফএলএ নামক দুটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী একজোট হওয়ার পর থেকে মালিজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিলের প্রাণঘাতী সমন্বিত হামলায় দেশটির বেশ কয়েকটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় বিদ্রোহীদের হামলায় মালির অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে দেশটির সরকারি সামরিক বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের চরম আতঙ্ক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিরাজ করছে।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ এখন পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক অ্যালেক্স ভাইন্স জানান, সাম্প্রতিক সময়ের এই আকস্মিক ও বড় ধরনের আক্রমণগুলো মালির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে ফেলেছে। ২০১২ সাল থেকে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটিতে ক্রমাগত অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির সরকার রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত আধাসামরিক বাহিনী ‍‍`আফ্রিকা কর্পস‍‍`-এর সহায়তা নিচ্ছে, যারা পূর্বে ওয়াগনার গ্রুপ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিদ্রোহী যোদ্ধারা একের পর এক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করায় বেসামরিক এলাকায় সরকারি বাহিনীর এই ধরনের ভুল হামলা ও প্রাণহানি বাড়ছে।

banner
Link copied!