যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান প্রদর্শনী চলাকালীন মাঝআকাশে নৌবাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার দর্শকের সামনে উচ্চগতির কসরত দেখানোর সময় বোয়িং ই-এ-১৮জি গ্রাওলার মডেলের বিমান দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। মাউন্টেন হোম এয়ার ফোর্স বেসে আয়োজিত `গানফাইটার স্কাইস` নামক ইভেন্টে ঘটা এই দুর্ঘটনার পরপরই বিমান দুটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং বিশাল এক অগ্নিগোলক সৃষ্টি করে বিস্ফোরণ ঘটে।
চারজন ক্রু সদস্যই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই বিমান দুটি মাটিতে আঘাত হানার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে ক্রু সদস্যরা সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাঝআকাশে বিমান দুটি একে অপরের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার পর পেন্টাগনের তৈরি চারটি পৃথক প্যারাশুট মেঘের বুক চিরে নেমে আসছে। ঘটনার পরপরই আইডাহোর এই সামরিক ঘাঁটিতে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে লকডাউন জারি করা হয় এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। বিমান ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ এবং ইভেন্ট আয়োজকরা পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছেন যে উদ্ধারকৃত চারজন ক্রু সদস্যই বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং কোনো দর্শক বা কর্মী আহত হননি।
এই দুর্ঘটনার পর দুই দিনব্যাপী আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর বাকি অংশ সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। বিধ্বস্ত ই-এ-১৮জি গ্রাওলার বিমান দুটি মূলত ওয়াশিংটনের হুইডবে আইল্যান্ডে অবস্থিত ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন ১২৯-এর অংশ ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকলেও বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৯ মাইল। বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সেফটি অপারেটিং সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী জন কক্স জানিয়েছেন, আধুনিক সামরিক বিমান প্রদর্শনীর ফ্লাইং অত্যন্ত কঠিন এবং এখানে ভুলের সুযোগ খুবই সামান্য।
আইডাহোর এই সামরিক ঘাঁটিতে বিমান প্রদর্শনীর নিরাপত্তা নিয়ে এটিই প্রথম বিতর্ক নয়।
এর আগে ২০১৮ সালে এই ইভেন্ট চলাকালীন একজন হ্যাং গ্লাইডার পাইলটের মৃত্যু হয়েছিল, যার পর এবারই প্রথম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও ২০০৩ সালে একই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি থান্ডারবার্ড জেট বিধ্বস্ত হয়েছিল, যেখানে পাইলট মাটিতে আছড়ে পড়ার মাত্র এক সেকেন্ড আগে ইজেক্ট করেছিলেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া চার পাইলটের সরাসরি জবানবন্দি এই তদন্তে বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
