বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিয়ের ৫ মাসেই ভারতীয় তরুণীর মৃত্যু, কাঠগড়ায় বিচারক পরিবার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৯, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

বিয়ের ৫ মাসেই ভারতীয় তরুণীর মৃত্যু, কাঠগড়ায় বিচারক পরিবার

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ৩৩ বছর বয়সী এক উচ্চশিক্ষিত তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাটারা হিলস এলাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে টুইশা শর্মা নামের ওই এমবিএ গ্র্যাজুয়েটের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করার পর নিহতের পরিবার তার স্বামী এবং প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হেনস্থা ও যৌতুকের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে। মৃত্যুর পূর্বে বান্ধবীদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামে করা নিহতের বেশ কিছু আতঙ্কগ্রস্ত ও অসহায় চ্যাট বার্তা প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে জটিল আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে এই ডিজিটাল চ্যাট বার্তাগুলোকে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ।

নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একটি আধুনিক ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ভোপালের নামকরা আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে দিল্লির করপোরেট সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত টুইশা শর্মার পরিচয় হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ২০Reset সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক পারিবারিক বিয়েতে রূপ নেয়। তবে বিয়ের পর থেকেই টুইশা তীব্র মানসিক অবসাদ এবং একাকীত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তার উদ্ধার হওয়া মোবাইল ডেটা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। গত ৭ মে এক বান্ধবীকে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি লিখেছিলেন যে, সারাদিন ঘরে বন্ধ অবস্থায় তিনি প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তড়িঘড়ি করে কাউকে বিয়ের ভূত মাথায় না চাপানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত কণ্ঠে লিখেছিলেন যে, তিনি পুরোপুরি ফেঁসে গেছেন এবং সময় সুযোগ বুঝে নিজেই ফোন করবেন।

এই চাঞ্চল্যকর বার্তাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে নিহতের বাবা নবনিধি শর্মাসহ তার স্বজনেরা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের সামনে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, ভোপালের স্থানীয় পুলিশ অভিযুক্ত প্রভাবশালী বিচারক পরিবারের ভয়ে মামলা নথিভুক্ত করতে এবং সঠিক ধারায় তদন্ত পরিচালনা করতে চরম গড়িমসি করছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ঝুলন্ত মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হলেও টুইশার শরীরে একাধিক গভীর ও সন্দেহজনক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার কারণে নিহতের পরিবার নিরপেক্ষতার স্বার্থে দিল্লির এইমস হাসপাতালে পুনরায় ময়নাতদন্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভোপালের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র বিচারক গিরিবালা সিংহ এবং তার ছেলে তথা টুইশার স্বামী সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও পরিকল্পিত খুনের মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অত্যন্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তদন্তের গতিপথ ডাইভার্ট বা প্রভাবিত করতে পারে—এমন আশঙ্কার মুখে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত দল বা সিআইটি গঠন করা হয়েছে। প্রবাসে বা ভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী উচ্চপদস্থ চাকুরিজীবী নারীদের বৈবাহিক নিরাপত্তা এবং শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন প্রতিরোধের আইনি কাঠামো নিয়ে এই ঘটনাটি পুনরায় দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

banner
Link copied!